স্পষ্টবাদী – শঙ্কর বৈদ্য

গল্প সাহিত্য
Spread the love

প্রতিবারের মতাে দুর্গাপূজায় ঋষিরা দিদার ফ্ল্যাটে চলে এসেছে। কোরােনার সৌজন্যে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে চাকরি নিয়ে ব্যাঙ্গালুরু গিয়ে ফিরে এসে ওয়ার্ক ফ্রম হােম করছে।

ফ্ল্যাট বাড়িটির গ্রাউণ্ড ফ্লোরের বিরাট গ্যারেজে আড়ম্বরহীন এই পুজোর পাঁচদিন সকালের জলখাবার থেকে রাতের খাওয়া পর্যন্ত সবাই একসাথে থাকে এবং এক পরিবারের মতােই আনন্দে মেতে ওঠে। | ষষ্ঠীর দিন সকালে দশটা নাগাদ পাঞ্জাবি আর পাজামা পরে ঋষি মণ্ডপের সামনে এসে দাঁড়ায় ডাকের সাজে মাকে প্রকৃত আনন্দময়ীরূপে দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রণাম করে। পিছনে ছােট ছেলেমেয়েদের দলটি তাকে ডাকে। এগিয়ে যায় ঋষি। গত ছয়বছরে সে এই পুজোয় আসছে। সবার সাথে প্রাথমিক সম্ভাষণ সেরে কে কেমন আছে জেনে নিয়ে জলখাবারের। কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যায় সে। লুচি আর আলুরদম আর জিলিপি নিয়ে আসে। খাওয়া শেষ হলে হাত ধুয়ে মাস্কটা আবার পরে নিয়ে গল্পে যােগ দেয় ঋষি।

ঋষির দিদাকে সঙ্গে নিয়ে চারতলার রিম্পি আর একটি অচেনা মেয়েকে লিষ্ট থেকে ৫ নেমে আসে। ঋষি দৌড়ে গিয়ে। দিদাকে ধরে মণ্ডপের সামনে নির্দিষ্ট কাঠের বড় চেয়ারে বসিয়ে দেয়।

রিম্পি এসে সকলের সঙ্গে নিজের মাসতুতাে বােন পায়েলের আলাপ করিয়ে দেয়। পায়েল এবার। মেডিকেল ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে কিন্তু একদিনও। কলেজে যেতে পারেনি। কবে আবার সব স্বাভাবিক হবে কে জানে!

প্রসঙ্গত ঘােরাতে তৎপর হয়ে ওঠে ঋষি। সে ছেলে বনাম মেয়ে দল বানিয়ে অন্তাক্ষরী শুরু করে। গানের লড়াই ভালােই চলছিল হঠাৎ স্যান্ডিং চিটিং করায় ঝগড়া বেঁধে গেল দুপক্ষের।

রিম্পি গলা চড়িয়ে বলল—“এইজন্যেই আমি ছেলেদের দুচোখে দেখতে পারিনা। নিয়ম ভাঙা তােদের নেশা। যেই দেখলি আমরা এগিয়ে আছি ব্যস যেন-তেন-প্রকারেণ তােদের জিততেই হবে।” | স্যান্ডি বলে—“মেয়েরা চিরদিন গলাবাজি করে জিতে গেল। হেরে ময়দান ছাড়ব এরকম শর্ত করেই ওদের সঙ্গে লড়তে নামা উচিত ছিল।”

—“কি দিলে কাকা! পুরাে জমে ক্ষীর!” বলে চেঁচিয়ে ওঠে বিক্রম। ঋষি লক্ষ করে সব মেয়েরা গলা তুলে ঝগড়া করছে কিন্তু পায়েল মেয়েটি শান্ত চোখে ঠাকুরের দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর

হঠাৎ মেয়েটি উঠে দাঁড়ায়। কারও চোখে পড়েনি কিন্তু সে দেখেছে দিদা এদিকে আসছেন। পায়েল গিয়ে পরম মমতায় তাঁর এক হাত ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। ঋষি উঠে গিয়ে চেয়ার নিয়ে আসে।

দিদা গুছিয়ে বসেন। পায়েলের আন্তরিকতায় তিনি খুব খুশি হয়েছেন বােঝা যায়। সবার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করেন “কি হয়েছে দাদাভাই দিদিভাইরা? যুদ্ধ লেগেছে বুঝি? এত চিৎকারে বিরক্ত হয়ে মা তাে এখান থেকে অন্তর্ধান করবেন।”

—“দিদা তুমি বিচার করাে। আমরা গানের লড়াই খেলছিলাম। এই স্যান্ডিং চিটিং করল আর এখন বলছে মেয়েরা নাকি গলাবাজি করেই দিতে যায় চিরদিন,” বলে মাম্পি।

—“শােন একটা গল্প বলি। দুর্গাপূজার ইতিহাস কি জানিস? বলি? আচ্ছা শােন। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী সৃষ্টির শুরুতে বৈকুণ্ঠে পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণ প্রথম মা দুর্গার পূজা করেন। দ্বিতীয়বার মধু এবং কৈটভ নামে দুই অসুরের হাত থেকে নিজের প্রাণ বাঁচানাের জন্য ব্রহ্মা মা দুর্গার পূজা করেন। এরপর মহাপরাক্রমশালী মহাদেব একবার ত্রিপুরা নামে এক অসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে বিপদে পড়ে তৃতীয়বার মাদুর্গার পূজা করেন। এরপর দুর্বাসা মুনির অভিশাপে মা লক্ষ্মীকে হারিয়ে ইন্দ্রদেব জগন্মাতাকে আরাধনা করেন।

এরপর যদি আমরা দেবীভাগবত পুরাণ দেখি সেখানে মনু, দেবীমায়ের আরাধনা করেছেন। কিরে তােরে শুনতে খারাপ লাগছে। তাে? বুড়ির বকবক শুনে তােরা বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি নাতাে?”

—“নানা দিদা প্লিজ বলাে। আমরা তাে এগুলাে কিছুই জানিনা।” অনেকেই একসাথে বলে ওঠে।

—“এরপর মার্কণ্ডেয় পুরাণে আছে দেবীমাহাত্ম্যম বা শ্রীশ্রীচণ্ডী যাতে কয়েকটি প্রচলিত গল্প আছে যা পড়লে দেবীর পূজার প্রসার সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি। আজকে মহিষাসুরের গল্প বলি। প্রচণ্ড পরাক্রমশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করলে তারা সবাই মিলে ব্রহ্মা বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরণাপন্ন হন। মহিষাসুরের কার্যকলাপ শুনতে শুনতে ক্রোধে সমস্ত দেবতার শরীর থেকে তেজপুঞ্জ বের হয় যা একত্রিত হয়ে একটি দেবীমূর্তির রূপ ধারণ করে তিনিই দেবী দুর্গা। কাত্যায়ন মুনির আশ্রমে তার আবির্ভাব ঘটায় তার আরেক নাম কাত্যায়নী যিনি অষ্টদশভুজা। যিনি বাঙালির কাছে দশভুজা রূপে পূজিতা হন। | এবার যেটা বলার জন্য আমি এতগুলাে কথা বললাম সেটা হচ্ছে দেবতারা যতবার ল্যাজে গােবরে হয়েছেন ততবার নারীশক্তি মা দুর্গার শরণ নিয়েছেন এবং তােদের ভাষায় হেভিওয়েট ব্রহ্মাবিষ্ণু-মহেশ্বরও এর ব্যতিক্রম নন। তাহলে এই সিদ্ধান্তে আমরা আসতে পারি যে নারীকে কোনও অবস্থায় শুধু গলার জন্য শক্তিশালী জাতীয় বাজে কথা বলে কিছু লাভ নেই। চিরদিনই নারীই আসল শক্তি এবং পুরুষ তার উপাসক মাত্র এটি মনে রেখাে।” বলে থামলেন ক্লান্ত দিদা।

তুমুল হর্ষধ্বনিতে ফেটে পড়ে মেয়েরা। পায়েল বসে বসে

হাততালি দেয়। সে যে দিদার কথায় ‘হাইলি ইমপ্রেসড’ সেটা | বােঝা যায় তার মুগ্ধ চোখ দেখে। ঋষি হঠাৎ আবিষ্কার করে সে বারবার পায়েলের দিকে তাকাচ্ছে আর মেয়েটির মাস্ক এর উপর দিয়ে যে দুটো চোখ দেখা যাচ্ছে সে দুটি বেশ বুদ্ধিদীপ্ত আর খােলা আকাশের মতাে নির্মল।

—“ও কি একবারও আমার দিকে তাকাচ্ছে?” ভাবে ঋষি। একটু বাদে মেয়েটির কার্যকলাপ দেখে তাে ঋষি অবাক, একটা প্লেটে সব পদ অল্প অল্প করে নিয়ে হাত স্যানিটাইজ করিয়ে খেতে দেয় দিদাকে। পাশে বসে গল্প করতে থাকে।

—“কি কেস বলােতাে ঋষিদা? আমার বােন লেসবি নাকি? দিদার প্রেমে পড়েছে মনে হচ্ছে! এখন তাে সব বিয়েই বৈধ আমাদের দেশে।” হাসতে হাসতে বলে রিম্পি। মেয়েটার মুখে কিছুই আটকায় না।

ঋষি নিরুত্তর থাকে। এইটুকু দেখেই কেন যে পায়েলকে এত ভালাে লাগছে তার সে বুঝতে পারছে না।

সপ্তমীও দিদার সাথে আড্ডা দিল পায়েল। সারাদিন আধখানা কথাও বলেনি তার সাথে। ঋষি ভাবল মেয়েটার বােধহয় খুব দেমাক তাই তার ব্যাকুল চাহনিতে ওর কোনাে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। রাতে সে দিদার পাশে শুয়েছিল।

দিদা প্রশ্ন করলে—“কি হয়েছে! পুজোর দিনে মুখে হাসি নেই কেন রে?”

—“কিছু না। ঘুমাও।” চোখ বন্ধ করে ঋষি ভাবে কোনাে পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বী হলে ভাবা যেত কিন্তু ইনি যে নিজে দিদা। কাল অষ্টমী। যে করে তােক প্রপোেজ করতেই হবে। | অষ্টমীর দিন নীল রঙের পাঞ্জাবি আর বেল্ট লাগানাে সাদা ধুতি পরে অঞ্জলি দিতে নামে ঋষি। রিম্পি তাকে দেখে সিটি মারে।।

—“বস কি লাগছে তােমায়? চলাে একটা সেলফি নি। ক্যাপশন দেব উইথ আ হিরাে।” বলে রিম্পি। | পায়েল আসে দিদার সাথে। রিম্পি বলে—“এমা! পায়েল শাড়ি পরেছে কেন! পারিনা। যত রাজ্যের ভুলভাল গাঁইয়াপনা।”

অতি আধুনিক কিন্তু ঐতিহ্যে বিশ্বাসী ঋষি মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এখুনি অঞ্জলি শুরু হবে। দিদার পাশেই দাঁড়িয়েছে পায়েল। দিদার পিছনে গিয়ে দাঁড়ায় সে। কি পারফিউম লাগিয়েছে ও কে জানে। ক্রমশ অবশ হতে থাকে ঋষি।।

—“এই যা। দক্ষিণা আনিনি তাে।” দিদা বলেন।

পকেট থেকে কয়েনগুলি বার করে একাট দিদার হাতে দিতেই পায়েল হাত পাতে।

—“আমাকে একটা টাকা দাও তাে?” হালকা আইলাইনারের টান চোখদুটিকে মাধুর্যে ভরিয়ে দিয়েছে। কথার সুরটা বড্ড আন্তরিক। 

সন্ধ্যায় ঘরােয়া অনুষ্ঠানে ঋষি গাইল ‘একটুকু ছোঁয়া লাগে একটুকু কথা শুনি।” দর্শকদের মধ্যে দিদা আর পায়েল অনুপস্থিত দেখে তার মনে হল গান গাওয়াটা বৃথা হল। রিম্পি নাচল ‘লাল গেন্দা ফুল।

সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে দাদুর কোট প্যান্ট পরা দিদা আর গাউন পরা পায়েল এসে বল ড্যান্স করল মিউজিক চালিয়ে। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।

রাতে আবার ঘুম আসেনা ঋষির। কি অসহায় অবস্থা তার। মেয়েটা দিদার সঙ্গ ছাড়লে তাে সে কিছু বলার সুযােগ পেত।

হঠাৎ দরজায় ঠকঠক করে আওয়াজ শুনে ঋষি গিয়ে দরজা খুলে দেখে তার মা গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।—“বাবা ডাকছেন।” বলেন মা।।

—“ব্যাগ গুছিয়ে নাও। আমরা কাল সকালেই বাড়ি ফিরব।” বাবা জানান বিরক্ত মুখে।।

বিস্মিত ঋষি তাকায় মায়ের দিকে। মা তার ফোনটা ওকে দেখতে দেন। পূজা কমিটির হােয়াটস অ্যাপ গ্রুপে একটি লিংক দিয়ে বিক্রমে মা সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ফেসবুকে লিংকটিতে রিম্পি তার একটুকু ছোঁয়া লাগে’ গানটি পােস্ট করে ক্যাপশন দিয়েছে, “মাই হিরাে। লাভ ইউ বেবি।” কাকিমা জুড়েছেন… ফ্ল্যাটের সবাই এই সম্পর্কে খুশি। এর থেকে বেশি আনন্দ আর কি হতে পারে! অভিনন্দনের বন্যা বইছে ওদের জুড়ির উদ্দেশ্যে।

| কি ক্ষতি যে তার হল সেটা বাবা মার পক্ষে বােঝা অসম্ভব। রিম্পি এতবড় ক্ষতি করল তার! ক্ষুব্ধ অপমানিত বাবা মা। তাঁদের একটাই কথা ঋষি কেন নিজে জানাল না? তাঁরা মানতে পারবেন

আবার দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তাদের জীবনসঙ্গী বেছে নিতেই পারে। সংবিধান মেনে বিয়ে করতেই পারে ঋষি। তবে তারা সে বিয়েতে যাবেন না।

ঋষি বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। একটু বাদে দিদার ঘরে চলে এসে ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে বসে। তার ভিতরে রাগ অপমান অভিমান সবকিছু অনুভূতি মিলে মিশে ফুসতে থাকে। দিদা বলেন—“রিম্পি! আমি সব সামলে নেব দাদুভাই।”

দিদাকে জড়িয়ে ধরে ঋষির চোখে জল আসে। কোনওমতে সে বলে—“রিম্পিকে আমি বােন বলে ভাবি দিদা।”

—“জানতাম। আমার অভিজ্ঞ চোখ দাদুভাই।” ওর মাথায় হাত 

বুলিয়ে দেন দিদা। | বাবা ড্রাইভ করছেন। মা পাশে বসা। পিছনে পাথরের মতাে বসে আছে ঋষি। নবমীর ভােরবেলায় কলকাতা এখনাে জাগেনি তাই ফাকা রাস্তাঘাট।। | দিদা ফোন করেন মাকে। গাড়িটা দাঁড় করাতে বলেন। তিনি দুজনকে পাঠিয়েছেন বলে ফোন কেটে দেন। কি ব্যাপার কিছুই না বুঝে বাবা বাঁদিকে গাড়িটা দাঁড় করিয়ে দেন।

| একটা স্কুটি আসছে ঝড়ের গতিতে। কাছে আসলে বােঝা যায় পায়েল আর পিছনে রিম্পি।

| রিম্পি আগে দৌড়ে এসে বলে—“আমাকে মাফ করে দিও ঋষিদা। আসলে বয়ফ্রেণ্ডকে টাইট দিতেই এই পােস্ট করেছিলাম। বাপধন সুড়সুড় করে শুধরে গেছে। আমার জন্য তােমাদের এত বাজে মন্তব্য সহ্য করতে হল। সরি আন্টি।”

পায়েল সামনে এসে একটি মুখবন্ধ খাম দেয় ঋষির মায়ের হাতে। দিদা লিখেছে—“মণি ফিরে আয়। ঋষি পায়েল একে অপরকে ভালােবাসে। তাছাড়া পায়েল আমার নির্বাচিত নাতবৌ। মায়ের উপর ভরসা রাখতে পারিস।”

—“দিদির পােস্ট দেখে আমিও ভুল বুঝেছিলাম। দিদা ভুলটা ভাঙিয়ে দিলেন। দিদার

সাথে আমরা প্রথম দর্শনেই প্রেম হয়েছিল। দেখাে আন্টি ডাক্তারি পড়া শেষ করতে অনেক সময় লাগবে। তারপর ভাবব। তবে বিয়ে করলে তােমার ছেলেকেই করবাে। ও তাে জীবনে বলতে পারত না তাই আমিই বলে দিলাম। এখন ফিরে চলাে।”

স্পষ্টবাদী মেয়েটির কথা শুনে হাসেন হবু শাশুড়ি।

—“আর কোনওদিন ওভাবে স্কুটি চালাবি না কথা দিলে তবেই রাজি হব আমরা।” বলেন হবু শ্বশুর। | ঋষি বলে—“সবসময় দিদাকে দেহরক্ষী করে ঘুরলে কথা বলা যায়। ঝগড়া দিয়েই কথাবলা শুরু করে দুজনে।

রিম্পি বলে—“গাড়িতে উঠে ঝগড়াটা সেরে নে। আমি স্কুটিতে ফিরছি।”

—“ফেন নম্বরও চাওনি। দিদা না বললে তাে আমি বিশ্বাসই করতাম না।” ফুসে ওঠে পায়েল।

মাইকে গান শােনা যায়—সকলই তােমারই ইচ্ছা’…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *