সমাধান – সুধির চন্দ্র পাল

গল্প সাহিত্য
Spread the love

চিঠিটা এইরকম ছিল :

ভাই চোর, তুমি যদি আমার ঘরে প্রবেশ করে থাক তাহলে চিঠিটা আগে তুমি পড়, তারপর যা তােমার চুরি করতে ইচ্ছে হয় তুমি তাই তাই চুরি কর। প্রথমত বলি যে, এই খাটের তােশকের নিচে তােমার জন্য দু-হাজার টাকা রাখা আছে। সারা বাড়িতে কেবলমাত্র এই দু-হাজার টাকাই আছে। আর গয়নাগাটি আমি কোনওদিনই পছন্দ করতাম না। তাই যেটুকু গয়নাগাটি আমার স্ত্রীর আছে সবটাই ওঁর বাপের বাড়িতেই রাখা আছে। সেইজন্য গােটা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজলেও কোথাও তুমি একরতি সােনা পাবে না। তাই তােমাকে আমি অনুরােধ করছি যে, ওই দু-হাজার টাকা নিয়েই আজ তুমি সন্তুষ্ট হও। দয়া করে ঘরের জিনিসপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করে আর নষ্ট করাে না। আর যদি তুমি মনে কর যে আজ চুরি করে তােমার পােষাল না—তবে তােমাকে আর একটা কথা বলি, সেটা হল এই চিঠির নিচে আমার ফোন নম্বর দেওয়া থাকল। আমি দিন দশেক পর বাড়ি ফিরে এলে আমাকে একটা ফোন করে তােমার আর কত টাকা লাগবে সেটা জানালে আমি তাও তােমাকে দিয়ে দেব। ভয় নেই, আমি তােমাকে তখন পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কোনও ফন্দি আঁটব না। লক্ষ্মীটি প্লিজ, আমার কথাটা তুমি মনে রেখ। তােমার ভালাে হবে। তাং-২৫/২/১৯।

ইতি—

বাড়ির মালিক পরিমলবাবু বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক দুদিন পরই এক চোর একটি ঘরের জানালার কাচ ভেঙে তারপর শাবল দিয়ে জানালার একটি লােহার পাত চাড় দিয়ে খুলে ফেলে ঘরে ঢুকে পড়ল। ঘরে ঢুকে মােবাইল টর্চের আলাে জ্বালতেই খাটের উপর খােলা পড়ে থাকা চিঠিটা সে দেখতে পেল। কৌতূহলবশতই চিঠিটা সে হাতে তুলে নিয়ে দেখল যে চিঠিটা ওর উদ্দেশ্যেই লেখা হয়েছে। তখন সে চিঠিটা হাতে নিয়েই খাটে বসে মােবাইলের আলােয় পড়ল। পড়াশেষ করেই খাটের তােশকটা উঠিয়ে চিঠির বয়ান অনুযায়ী টাকাটা দেখতে পেল। টাকাটা সে তখন হাতে গুজে রেখে মােবাইলের আলােটা নিভিয়ে দিল। অন্ধকার ঘরে চোরটা একা বসে ভাবতে লাগল বাড়ির মালিকের সম্পর্কে। সত্যিই এরকম লােকও আবার হয়। কয়েক মিনিট বসে ভেবে চোরটা ঠিক করল যে, থাক আর কিছু এখানে ঘাঁটাঘাঁটি করার দরকার নেই, লােকটা যখন আমাকে সম্মান করে আমার জন্য টাকাটা

রেখে গেছে তখন খামােখা আর জিনিসপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করে কাজ নেই। তাই চল মন পালাই বলে চোর টাকাটা নিয়ে বেরিয়ে গেল। | দিন দশেক পর যথারীতি পরিমলবাবু সিমলা ঘুরে বউ ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে এল। দরজা খুলে ঘরে ঢুকেই খাটের উপর চিঠিটা আছে কিনা লক্ষ করতে গিয়ে দেখল যে চিঠিটা নেই। তারপর জানালার দিকে চোখ পড়তেই বুঝে গেল যা আশঙ্কা করে গিয়েছিল তাই ঘটেছে। এরপর আলমারি শাে-কেস ইত্যাদির দিকে লক্ষ করে দেখল সব ঠিক আছে। তােশকটাও তুলে একবার দেখে নিল। তারপর বউ ছেলের উদ্দেশ্যে বলল যাক, তবু দু-হাজারের উপর দিয়ে গেছে। তবে চোরটা বােধহয় ভদ্র। আমার অনুরােধ সে রেখেছে। তবে জানালাটা আবার মেরামত করতে হবে, এটাই হবে কষ্টের। তবুও দেখা যাক বলে পরিমলবাবু মুখহাত ধুয়ে রান্নার জোগাড় করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে বলে বাজারে চলে গেল।

| একদিন পর চোর চায়ের দোকানে বসে চা খেতে খেতে

পরিমলবাবুর চিঠির কথাটা নিয়ে ভাবতে লাগল। চিঠিতে উনি লিখেছেন যে যদি আরও টাকা লাগে তাহলে ফোন করে বলতে। শালা ফোন করলে আবার ফাঁদ পেতে ধরে ফেলবে নাতাে! এই রকম সাত পাঁচ ভেবে চোর এই সিদ্ধান্তে এল যে, যদি ফোন করে ধরা পড়ি তাহলে এমনকি আর হবে। খুব বেশি হলে না হয় তিনমাস জেলই খাটব। দেখাই যাক না একটা ফোন করে। এরপর সে পকেট থেকে চিঠিটা বের করে একটা ফাঁকা জায়গায় গিয়ে চিঠিতে দেওয়া নম্বর দেখে একটা ফোন করল।

পরিমলবাবু তখন বাড়িতে বৈকালিক চা পানে রত ছিলেন। ফোনটা হাতের কাছে বেজে উঠতেই রিসিভ করে জিজ্ঞাসা করলেন—কে বলছেন? ওপার থেকে চোরটা প্রথমে একটু থতমত খেলেন। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল আমি মানে আমি আপনার বাড়িতে ঢুকেছিলাম—

পরিমলবাবু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, ও চোর ভায়া, বেশ ভালােই করেছ। তােমাকে অশেষ ধন্যবাদ, এই জন্য যে তুমি আমার কথা রেখেছ। তা বাবা এবার আমাকে কী করতে হবে?

চোর বেটা গৃহকর্তার হাবভাব বুঝে গেল। তারপর সে গম্ভীর গলায় বলল, শুনুন আমি চোর হতে পারি তাই বলে আমি অভদ্র নই। আমি আপনার কথা রেখেছি। এবার আপনিও আশা করি আমার কথা রাখবেন। | চোরের মুখে ভদ্র অভদ্রের কথা শুনে পরিমলবাবু একটু সচকিত হয়ে উঠলেন। মুহূর্তে মনের মধ্যে কোথায় যেন একটা প্রীতিপূর্ণ নীতির ছোঁয়া অনুভব করলেন। তারপর ফোনে গদগদ হয়ে বললেন—হ্যা ভায়া, তা বল এবার আমায় কী করতে হবে? চোরটি তখন অতি সাধারণভাবেই বলল, দেখুন আজকাল কোনও বাড়িতে চুরি করতে ঢুকলে সেখান থেকে কম করে বিশ পঞ্চাশের নিচে আমি ফিরে আসি না। তা আপনি তাে মশায় মাত্র দু-হাজার রেখে গেছেন। সেই জন্য আপনাকে এবার আমি অনুরােধই করছি যে আপনি আমাকে আর মাত্র পাঁচ হাজার দিন। তাহলেই আমি খুশি থাকব।

পরিমলবাবু একটু মাথা চুলকে বললেন, পাঁচ হাজার! আর দু-হাজার দিলে হয় না?

—যা বললাম, তা যদি দিতে পারেন তাে দেবেন, না-হলে কথাটা তােলা থাকল পরের বারের জন্য।

পরের বারের কথা শুনে পরিমলবাবু ভাবলেন, আরে আমরা তাে বছরে দুবার করে বেড়াতে যাই। তা যদি পরের বার ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র নষ্ট করে, যদি আগুন লাগিয়ে দেয়—এই ভেবে পরিমলবাবু বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে ভায়া—তােমার কথাই থাকল। তবে দিন তিনেক বাদে এসে তুমি টাকাটা নিয়ে যেও। ভয় নেই আমি তােমাকে ধরার কোনাে মতলব করছি না।

ওপার থেকে চোর ভায়া তখন বলল দেখবেন কোনও ফন্দি আঁটলে কিন্তু বড় মুশকিলে পড়বেন। টাকা রেডি রাখবেন। আমি ঠিক সময়মতাে গিয়ে নিয়ে আসব। এই বলে সে ফোনটা কেটে দিল।

এদিকে পরিমলবাবুর স্ত্রী চোরের সাথে ফোনালাপের পর বাড়িতে চিৎকার চঁাচামেচি শুরু করে দিল। পরিমলবাবু স্ত্রীকে বললেন, দেখাে চিৎকার করাে না। পাড়ার লােক জানতে পেরে যাবে।

| স্ত্রী তখন আরও চিৎকার করে বলতে লাগল, কেন? আমি চুপ করব কেন? তােমার কথা শুনে তাে মনে হচ্ছে যেন আমিই চুরি করেছি। ওদিকে আবার সেই চোরকেই বাড়িতে ডেকে এনে তার হাতে টাকা তুলে দেওয়া হবে। বাঃ, চমৎকার তােমার | ডিসিশন।।

| পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পরিমলবাবু তখন স্ত্রীকে বললেন, আরে ওকে আগে এখানে একবার আসতেই দাও না। তারপর তুমি দেখাে আমি কী করি।

তিন দিন পর চোর ভায়া কিন্তু এল না। পঞ্চম দিন সে তার এক শাগরেদকে পাঠিয়ে পরিমলবাবুর বাড়ির আশপাশের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে নিতে বলল। শাগরেদটি খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে এসে বাড়ির আশপাশের পরিবেশ, বাড়ির পরিবেশ মােটামুটি খোঁজখবর নিয়ে তার গুরুকে অভয়বাণী শুনিয়ে দিল। তারপর বলল, তবুও একটু সতর্ক থেক যেন বস। বলাতাে যায় না, শালা মনের মধ্যে কী আছে!

সপ্তম দিন বেটা চোর পরিমলবাবুর বৈকালিক চায়ের সময় এসে দরজায় কড়া নাড়ল। দরজা খুলে পরিমলবাবু দেখলেন অতিব মার্জিত পােশাক পরিহিত একজন ভদ্র যুবক করজোড়ে সামনে দাঁড়িয়ে। পরিচয় জিজ্ঞাসা করতেই উত্তর এল, পাঁচ হাজার নিতে এসেছি। যদি দয়া করেন—

যুবকের আচরণ দেখে পরিমলবাবু তাে একবারে হতভম্ব। পরিমলবাবুও তখন করজোড়ে তাকে সাদরে অভ্যর্থনা জানিয়ে ভিতরে আসতে বললেন। চোর ভায়া মনে একটু দ্বিধা নিয়েই পরিমলবাবুর অভ্যর্থনায় সাড়া দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ল। ঘরে ঢুকে পরিমলবাবু স্ত্রীকে বলল, কৈগাে এক কাপ চা বেশি দিও কিন্তু, আমার এক ভাইপাে এসেছে বলেই ওকে একটা চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বসতে বললেন পরিমলবাবু। | দ্বিধা কাটিয়ে চোর ভায়াও সটান চেয়ারে বসে পড়ল। এবার পরিমলবাবু ওকে জিজ্ঞাসা করলেন, তা ভায়া তােমার নামটা কী? থাকো কোথায় ?

চোর ভায়া বলল, নাম দিয়ে আপনি কী করবেন? আর ধাম জেনেই বা আপনার কাজ কী?

পরিমলবাবু তখন ওকে সরাসরি বলল, আচ্ছা ভায়া যদি কিছু | মনে না কর তাহলে একটা কথা জিজ্ঞাসা করবাে ? | চোর ভায়াতাে বুঝেই গেছে যে এরপর কী প্রশ্ন আসতে পারে। তাই ও নিজেই বলল, আমি কেন একাজ করি প্রশ্ন তাে? | পরিমলবাবু একটু হেসে বললেন, হ্যা, হ্যা বাবা, এটাই একটু জানার ইচ্ছা ছিল। সে তখন পরিমলবাবুর কানের কাছে মুখটা নিয়ে যেতেই পরিমলবাবু একেবারে আঁতকে উঠলেন। বললেন, ওরে বাবা! বল কি খু…।

চোর ভায়া তখন পরিমলবাবুর দিকে তর্জনিটা ঠোটের কাছে নিয়ে ইশারায় বলল, চুপ। | এবার নিজেকে একটু ধাতস্থ স্বরে পরিমলবাবু বললেন, তা ভায়া এসব না করে কোনও কাজটাজ করােনা কেন?

| চোরভায়া দেখল লােকটার কাছ থেকে কোনও বিপদের গন্ধ নেই। তাই একটু স্বাভাবিক হয়েই বলল, কাজ চাইলেই কি কাজ পাওয়া যায়! এরপর একটু মুচকি হেসে বলল আর তাছাড়া এটাও তাে একটা কাজ তাই না? তারপর গরগর করে বলতে লাগল আরে মশাই মাঝারি মান থেকে নিচের দিকে বিএ/বি.এস.সি পাস করা ছেলে মেয়েদের কোথায় কাজ বলুন তাে? বাবা জনমজুরি করে লেখাপড়া শেখাল। বি. এ. পাস করার পর পাঁচ বছর ধরে কাজের চেষ্টা করেছি। কোনাে শালা একটা আট দশ হাজারের কাজ দেয় না। আর সরকারি চাকরি ? ওসবতাে আমাদের কাছে এখন বামন হয়ে চাদে হাত দেওয়ার মতাে স্বপ্ন। প্রসঙ্গক্রমে ওর চুরি শুরুর আগে বাড়ির দৈন্যতার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে এল।

পরিবেশগত কারণেই পরিমলবাবুও তখন ওকে সান্ত্বনা দিলেন। তারপর বললেন, আচ্ছা, এখন যারা সরকারি ক্ষমতায় আছে সেই পার্টির নেতাদের কাছে গিয়ে একবার বলেই দেখনা, শুনেছি ওরা তাে এই রকম কিছু বেকারদের কাজ দেয়।

কথাটা শুনে চোর ভায়ার মাথাটা গেল গরম হয়ে। বলল, আরে কাকু আমরা আর কী চোর! ওরাতাে আমাদের থেকে আরও দশগুণ বড় চোর। আরে শুনবেন মশায়! একটা প্রাইভেট সিকিওরিটির চাকরির জন্য এক লাখ চায়! ওদিকে সরকারি কোষাগার থেকে সব মেরে ফাঁক করছে, আবার আমাদের মতাে গরিব মানুষগুলাের কাছ থেকেও নেবে। শালারা গাছেরও খাবে আবার তলারও কুড়ােবে। ওদের কথা আর বলবেন না মশায়— বুঝলেন!

ওদিকে ঘরে বসে পরিমলবাবুর ছেলে সমতল সব শুনছিল। চোর ভায়ার মুখ থেকে কথাগুলাে শুনে ওরও মনের মধ্যে আগুন জ্বলে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এসে বলল, কেন বাবার কি অভিজ্ঞতা নেই? প্রতি বছর চঁাদার নাম করে তােমার ব্যাবসা থেকে ওরা দু-তিন লাখ নেয় না ?

ছেলের কথা বলার ভঙ্গি দেখে পরিমলবাবু চমকে উঠলেন। ও তাে সাধারণত এভাবে কথা বলে না। এবার পরিস্থিতি যাতে অন্যদিকে না গড়ায় সেজন্য তিনি ছেলেকে মৃদু ধমকের সুরে বললেন, সমঃ কি হচ্ছে কী? এসব কথা কে তােমাকে এখানে বলতে বলেছে!

সমতলের কথাটা চোরভায়ার কানের অন্দর দিয়ে মনের গভীরে গিয়ে বিধল। ও তখন পরিমলবাবুকে থামিয়ে দিয়ে বলল, দাঁড়ান কাকু দাঁড়ান। ও যেটা বলল সেটা যদি ঘটনা হয় তা হলে ওততা ঠিকই বলেছে। এই পরিস্থিতিটা আপনি স্বীকার করুন। এটাইতাে এখন গােটা রাজ্যের চালচিত্র। ইতিমধ্যে চা এসে গেল। পরিমলবাবুর স্ত্রীর মুখের গম্ভীর ভাব

দেখে পরিস্থিতিটাও একেবারে শান্ত হয়ে গেল। চা-টা টেবিলে নামিয়ে রেখে এবার গম্ভীর অথচ শান্ত গলায় সুশীলা দেবী পরিমলবাবুর উদ্দেশ্যে বলল, অত নােংরা ঘাঁটাঘাঁটি করে লাভ কী? বরং এটা ভাবে না যে, ওখানে দু-তিন লাখ না দিয়ে এই | বেকার ছেলেটাকে তােমার বেকারি ফ্যাক্টরিতে কাজে লাগিয়ে ওই

টাকাটা ওকেই দিই—তাতে ছেলেটাও বাঁচবে আর আমরাও | এদিক থেকে বাঁচব। পরিমলবাবুর স্ত্রী কথাটা বলেই চলে গেল। | সুশীলাদেবী চলে যাবার পর ওদের আলােচনা কিছুক্ষণ থমকে থাকল। নিরবতা কাটিয়ে পরিমলবাবু চোর ভায়াকে চা-টা খেতে অনুরােধ করলেন। চা খেতে খেতে সে তখন বলে উঠল, কাকু ওঁরা সত্যিই বছরে আপনার কাছে থেকে অত টাকা নেয়?

—কী আর করব বল। ব্যাবসা করলে আর এলাকায় সুস্থ ভাবে থাকতে হলে এ ছাড়া আর পথ কী আছে বল?

—দেখুন, আপনাকে একটা কথা বলি। আপনি যদি সত্যিই সততা নিয়ে ব্যাবসা চালান তাহলে আপনার পাশে থেকে বলতে পারি যে, কাউকে যাতে আর টাকা না দিতে হয় সে দিকটা আমি সামলে দিতে পারি যদি আপনি আমার সাহায্য নিতে চান।

| কথাটা শুনে পরিমলবাবুর সামনে ভবিষ্যতের একটা স্বপ্ন ফুটে উঠল। মনে মনে ভাবলেন ছেলেটার কথাবার্তা তাে বেশ ভালােই। চোর হলেও স্বভাবে যে সে ওপথে যায়নি সেটাও বােঝাই যাচ্ছে। এবার চোর ভায়ার কথা শুনে পরিমলবাবু ওকে জিজ্ঞেস করলেন, সেটা তুমি কীভাবে করবে?

সে তখন পরিমলবাবুকে প্রশ্ন করল, আপনার ফ্যাক্টরিতে মােট কতজন কাজ করে?

পরিমলবাবু বললেন, কাজতাে করে জনা সাতেক। তা ওদের দিয়ে কী হবে শুনি? | চোর ভায়া তখন বলল, ওরা সাত আর আপনারা বাপ-বেটায় দুই—মােট নয়, আর তার সামনে যদি আমি থাকি তাহলে হয় দশজন। এই দশজন মিলে আমরা যদি রুখে দাঁড়াই তবে কার সাধ্য যে আপনার থেকে বখরা নেয়।।

| কথাটা পরিমলবাবুর বেশ মনে ধরল। ওদিকে ঘরে বসে | ছেলেও এই সব কথা শুনছিল। এমন সময় ঘর থেকে ছেলে সমতল আবার বেরিয়ে এসে বাবাকে বলল, বাবা! তােমার ফ্যাক্টরির আসল লােকটাই আজ তােমার সামনে এসে হাজির। ওকে চিনতে তুমি আর ভুল কোরাে না। এই বলে সমতল চোর ভায়ার হাত ধরে বলল, চল দাদা, তােমাকে একবার আমাদের ছােট্ট ফ্যাক্টরিটা | দেখিয়ে নিয়ে আসি। আজ থেকে আমরা দশজন মিলে এই ফ্যাক্টরি ঠিকমতাে চালাব আর তার সাথে বাটপারও সামলাব। এই বলে সে চোর ভায়াকে চেয়ার থেকে টেনে তুলল।

এমতাবস্থায় বলার মতাে পরিমলবাবুর আর কিছুই থাকল না। কেবল মৃদু হেসে ওকে একবার জিজ্ঞেস করল, তা বাপু তােমার নামটা?

ধীর কণ্ঠে চোর ভায়া উত্তর দিল, সততা বিশ্বাস। বলেই সমতলের হাত ধরে ওরা দুজনে বেরিয়ে পড়ল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *