যবনিকাপাত – রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস

গল্প সাহিত্য
Spread the love

মৌচাকে যদি তুমি মাত্র একটা ঢিলও ছুড়ে মার তবে তার প্রতিবাদে একটা মাত্র নয়, হাজারে হাজারে মৌমাছি ছুটে আসবে। তখন তােমাকে ভয়ে ছুটতে হবে। আর তুমি যত জোরেই ছােটো।

কেন তােমার চেয়েও জোরে ছুটে তারা তােমাকে তাড়া করবে। তারপর ? তােমার যা হাল হবে সেটা যমদুয়ারে গমনও হতে পারে, আরােগ্যধামের দুয়ারে শয়নও হতে পারে। তাদের থেকে বাঁচতে হলে বরং প্রতিবাদ না করে মরার মতাে শুয়ে পড়; হয়ত সে যাত্রায় রক্ষা পেতে পার। আমাদের বিমল এমনই একাট ঢিল ছুড়ে মেরেছিল একটা কাজ। মৌচাক কাগজটা খােলে, লেখাটা পড়ে। সেই সময়ে কেউ মৌচাকে। মৌচাক ছিল একটাই। তার নাম মৌ, পুরাে নাম মৌসুমী। কেউ উঁকি মেরে চিঠিটা দেখার চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে কিছু মৌচাক থাকলে যে মৌমাছিও থাকে সেকথা সে ভুলে গিয়েছিল। মৌমাছিও ছিল—যেমন নীতিশ, জয়ন্ত, অসিত, পুলক। বিমল ভেবেছিল—শুধুই মৌচাক, আর তাতে মধুভরা। তাই একটা এদের বিষয়ে কিছুই জানত না, তাই সে কাউকে কোনওরকম কাগজে URmy লিখে কাগজটাকে হাতে পিষে যত ছােট করা সন্দেহও করে নাই। যায় সেই চেষ্টা করে একটা ঢিলের মতাে করে ছুড়ে মেরেছিল ক্লাস শেষ হতেই সবাই ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে যায়। নীতিশ ক্লাসে বসে থাকা মৌকে লক্ষ করে। মৌচাক সেটা হাতে নিয়ে বিমলকে ফাকা পেয়ে তার গালে কষে এক চড় মেরে বলে— চারিদিকে তাকিয়ে খুঁজতে থাকে কে এই অপকর্মটা করেছে? বাঁদরামির আর জায়গা পাস না? ক্লাসে কাউকে চিঠি দেওয়া ? বিমলের দিকে চোখ পড়তেই সে ইশারায় জানিয়ে দেয় এটা তার ওটা আমার, বুঝেছিস? মনে থাকে যেন ওটা আমার। বাড়ির

কাছে পৌঁছতেই অসিত তাকে ডাকে। কাছে এলে সেও এক চড় কষে বলে—আমার জিনিসে তুই লােভ করিস? আর কখনাে যদি এরকম করিস তবে তাের এমন অবস্থা করব যে তাের পাড়াপড়শিরাও তােকে চিনতে পারবে না। বিমল প্রতিবাদ করবে ভেবেছিল, কিন্তু কি ভেবে তা থেকে বিরত থাকে। অপমানে তার শরীর জুলে যেতে থাকে। বিকালে খেলার মাঠে যেতেই জয়ন্ত তার চুলের মুঠি ধরে বলে—আমার জিনিসে তাের লােভ? তবে এই নে উপহার। বলেই তার পিঠে দুম করে এক কিল বসিয়ে বলে—এরপর যদি নুলাে বাড়াস তবে তােকে কিলিয়ে কুলাে চ্যাপ্টা। করে দেব।

অপমানে মাঠ থেকে সে না খেলেই ফিরে আসে। আসবার পথে পুলকদের বাড়ির সামনে আসতেই পুলক তাকে দাঁড়াতে বলে। পুলক কাছে এসে বলে তাের হাত তাে বড্ড বেড়েছে। আর ইপ্সিত ধনকে তুই হাতাতে চাস? বলেই তার গালে এক চড় বসিয়ে দেয়। বলে—এটাই শেষ নয়, তাের জন্য এরকম আরও উপহার আমার কাছে তােলা রইল। প্রয়ােজন হলেই প্রয়ােগ হবে। এবারেও বিমল প্রতিবাদ না করে বাড়ি চলে আসে। নিজের ঘরে ঢুকেই ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে, বিনা অনুমতিতে ঘরে কেউ প্রবেশ না করে। | সন্ধ্যা উত্তীর্ণ। মৌসুমীর বাবা মহেশ্বরবাবু বিমলদের বাড়ীতে আসেন। বিমলের বাবা গৌরীনাথ বাবুকে বিমলের বিরুদ্ধে মৌসুমীর হয়ে নালিশ করেন। সেকথা শুনে গৌরীনাথ রেগে ওঠেন। সদাপটে বিমলকে দরজা খুলতে বলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে বিমল দরজা খােলে। গৌরীনাথ কুছ বলে বকতে থাকেন। কিন্তু ছেলের হাউ মাউ কান্না শুনে মহেশ্বর বাবুকে বলেন—আপনি এখন আসুন।। আমার ছেলের ব্যাপার, আমি বুঝে নেব। এই বলে তিনি সেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মহেশ্বরবাবুকে বলেন—আপনার মেয়েকে কি আমার ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে চান? যদি তাই ভেবে থাকেন তবে এক্ষুণি তাকে এখানে নিয়ে আসুন, কথা হয়ে যাক। আর যদি মনে করেন আমার ছেলে আপনার মেয়ের উপযুক্ত নয়, তবে আপনাকে কথা দিচ্ছি, আমার ছেলের এমন ব্যবস্থা আমি করব যে ঐ মেয়ের দিকে আমার ছেলে কোনওদিন ফিরেও তাকাবে ।

এ কথা শুনে মহেশ্বরবাবু কোনও বাক্য ব্যবহার না করেই নিজের বাড়ির দিকে রওনা হন। বিমলের মা সরমা ঘরে ঢােকেন। বিমল তার মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে কেঁদে ওঠে। বাবা আদেশ করেন—কাল থেকে কদিন তাের ক্লাসে যাওয়া বন্ধ। তারপর কোথায় কি করতে হবে, আমি বুঝব।।

দিন সাতেক পরের কথা। কলেজ ক্লাসের সময়। বিমল গুটি গুটি স্কুটার নিয়ে মৌদের বাড়ির দিকে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে মৌ-এর বাবা-মা দুজনেই বাড়িতে আছেন। মৌ ক্লাসে গেছে। উৎসুক দৃষ্টিতে মহেশ্বর বাবু তাকিয়ে থাকেন বিমলের দিকে। বিমল জিজ্ঞেস করে—মৌসুমী বাড়িতে নেই তাে? | উত্তর পায়—না, কেন?

বিমল বলে—তাহলে ভালােই হয়েছে। আমি আজ আপনাদের কাছ থেকে একটা কথা জানতে এসেছি। নীতিশ, অসিত, জয়ন্ত, পুলক এরা কে কখন আপনাদের বাড়িতে আসে ?

মহেশ্বরবাবু প্রশ্ন করেন, কেন? তারা কারা? আর তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কইবা কী?

বিমলের উত্তর, ওদের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক না থাকতে পারে, আমার সঙ্গে আছে। যে সম্পর্ক আছে সেটা আগে জানতে পারি নাই; সেই সেদিনই জেনেছি। আপনাদের মেয়েকে আমি | একটা কাগজে কিছু লিখে দিতেই ওরা আমার ওপর খেপে ওঠে। | আমার ওপর হাতও চালায়। আমি তাদের কাউকেই প্রতিবাদ করি | নাই। কারণ আমার জানা ছিল না যে মৌসুমী অতগুলাে ছেলেদের পিছনে লাইন দিয়েছে। আমি ওদের হাতে মার খেয়েছি বটে, তবে সেটা আমার আশীর্বাদ। কারণ, মৌ-এর মতাে একটা নােংরা | মেয়ে আমার সামনে থেকে চিরতরে বিদায় হয়েছে।

মহেশ্বরবাবু বলেন, আমার বাড়ি থেকে তুমি যাবে? না কি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব? | বিমল ফিরে চলতে চলতে বলে—মা-বাবা খারাপ না হলে | মেয়েও খারাপ হয় না, তারই প্রমাণ পেলাম।

মহেশ বলেন, কি বলেছিস? কিন্তু বিমলকে চলে যেতে দেখে | তার পিছু নেন না।

(দুই)

একদিন নীতিশের বাবার নামে একটা চিঠি আসে। খামের | উপরে প্রেরকের নাম ঠিকানা নাই। প্রাপকের ঠিকানাটা ছাপানাে | অক্ষরে। কৌতুহলী হয়ে তিনি চিঠিটা খােলেন। ভিতর থেকে

বেরিয়ে আসে ছােট একটা টুকরাে ভাজকরা কাগজ। কাগজটা | খুলে দেখেন—সেটাও DTP ছাপাননা। সেটাতে লেখা ছিল

আপনার ছেলেকে সাবধান হতে বলুন; আমার মেয়ের পিছনে | লেগেছে। ও এপথ থেকে স্বেচ্ছায় যদি না সরে তবে সরানাের | পথ আমাকেই তৈরি করতে হবে। ইতি…।

আশ্চর্য! ইতিতেই শেষ। কে লিখেছে—নাম নাই, ধাম নাই, | গ্রাম নাই! কৌতুহলী হয়ে খামটা ওলটপালট করে দেখেন। বুঝতে পারেন স্থানীয় কেউ লিখেছে কোনও গাঁজাখুরির লেখা চিঠি হয়ে থাকবে ভেবে সেটা ছিড়ে কুড়াদানিতে ফেলে দেন। কিন্তু দুদিন। পরে আর একখানা অনুরূপ চিঠি আসে। এবারে চিঠিটা একটু হুমকি ধরনের।—আপনার ছেলেকে লাই দিয়ে মাথায় তুলছেন | কেন? এখনও যদি আপনার ছেলে না শােধরায় তাহলে মনে হয় | ছেলের বাবাকেই শােধরাতে হবে। ইতি…

চিঠিটা পড়ে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন নীতিশের বাবা। তখন নীতিশ ঘরে ছিল না, ক্লাস করতে কলেজে গিয়েছিল; তাই রক্ষা। নচেৎ, নীতিশের যে শাস্তির কথা তিনি ভেবেছিলেন কোনও বাবা হয়তাে নিজের ছেলের জন্য অতটা শাস্তির কথা ভাবেন না। রাতে তিনি নীতিশকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। শুনে নীতিশ যেন | আকাশ থেকে পড়ে। কোনও মেয়ের কথা সে মনেই করতে পারে। | না। ফলে বাবা কিছু মৌখিক শাসন ও উপদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হন। কিন্তু দুদিন পর আবার আর একটা একই ধরনের চিঠি আসে— আমার মেয়েকে কি বধূর বেশে সাজিয়ে গুছিয়ে আপনার ঘরে গিয়ে তুলে দিয়ে আসব ভেবেছেন? মনে রাখবেন—ছুঁচো চামচিকে, এদের মতাে লােকেদের সঙ্গে আমি আত্মীয়তা করব | না। ইতি… 

এবারের চিঠিটা পড়েই তিনি তড়িতের মতাে চেয়ার থেকে লাফিয়ে ওঠেন। হুঙ্কার ছাড়েন, নীতিশ কোথায়? কিছু একটা অঘটন ঘটেছে ভেবে নীতিশের মা ছুটে আসেন। তখন নীতিশের মায়ের উপরে বােমাবর্ষণ হতে থাকে। নীতিশের মা ক্রোধের কারণ জিজ্ঞেস করলে তার বাবা চিঠিটা গিন্নির হাতে দিয়ে বলেন— ও বেটা আসুক আজ, ওকে কচুকাটা করব! বিয়ের বয়স না হতেই পরের মেয়েকে নিয়ে টানাটানি ? আজ আসুক ও! কিভাবে কথা আদায় করতে হয় আমার জানা আছে। | মা ছেলেকে সামলাবার ভার নিলে বাবা শান্ত হন। কিন্তু আবার দুদিন পরে হুবহু আর একটা চিঠির আগমন। এবার তিনি চিঠি

খুলে গিন্নিকে ডেকে তার হাতে দিয়ে বলেন—খুলে দেখ, এটাতে আবার কি লিখেছে। মা চিঠিটা পড়েন—আমি কন্যাদায়গ্রস্ত হতে পারি, কিন্তু বিবেকহীন বাপের ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে | দেব না। নিজের ছেলেকে সামলান। এটাই আমার শেষ উপদেশ।

হলে… ইতি। | মা বলেন—আমি আজই সব খবর দেব। তারপরে তুমি যেটা ভালাে বােঝ সেটাই কোরাে।

নীতিশকে কথার প্যাচে ফেলে মা প্রকৃত কথা আদায় করেন। বাবাকে জানান। বাবা সেই মুহূর্তে রওনা হন মৌ-দের বাড়ির উদ্দেশ্যে। মনে মনে ভেবে চলেন—ও বাড়িতে গিয়ে মৌয়ের বাবার গালে ৮৪ সিক্কার এক চড় দেবেন, তারপর কথা বলবেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখেন মেয়ের বাবা ঘরে নাই। তার মতাে আরও তিনজন সেখানে উপস্থিত—জয়ন্তর বাবা, পুলকের বাবা আর অসিতের বাবা। কিন্তু কেউ কাউকে চেনেন না। অসিতের বাবা পুরাে চারটে চিঠিই হাতে করে নিয়ে এসেছেন। দেখা গেল, একই চিঠি, সবাইকে দেওয়া হয়েছে। মৌ-এর বাবার অপেক্ষা করতে থাকেন সবাই।

*

একদিন মহেশবাবুর কাছে একটা চিঠি আসে। চিঠিটা DTP করা। প্রেরকের নাম নাই, ঠিকানাও নাই। চিঠিতে লেখা ছিল— আপনার মেয়ে আমার ছেলের পিছনে অত ঘুরঘুর করছে কেন? এখনাে সময় আছে, মেয়েকে সামলান।

পরের দিন আরও তিনখানা চিঠি আসে। সবগুলােই DTP করা। চিঠির ভাব একই থাকলেও লেখার ধরন আলাদা। প্রথম চিঠি পেয়ে মহেশবাবু ভাবতে থাকেন মেয়েকে বা তার মাকে কিছু জানাবেন না। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে চিঠিগুলাে পেয়ে মৌয়ের মাকে চারটে চিঠিই দিয়ে বলেন—এখন শুনে দেখ তােমার মেয়ে কি বলে।

সময় হলে মা মেয়েকে জিজ্ঞেস করেন।। মেয়ে উত্তর দেয়— সে কোনও ছেলের কথা জানে না। শুধুমাত্র বিমল নামের ছেলেটা তাকে একাই খােলা কাগজে কিছু লিখে কাগজটাকে দলা পাকিয়ে তার দিকে ছুড়ে মেরেছিল একদিন। এছাড়া সে আর কিছুই জানে

। | আর একদিন দ্বিতীয় দফায় একই সঙ্গে ডাকে চারটে চিঠি আসে। এবারের চিঠিগুলােতে মহেশ্বরবাবুকে ধমকানাে হয়েছে। মেয়েকে যদি শিগ্নিরই কারও সাথে বিয়ে না দিতে পারেন তবে যেন মেয়ের কলেজে যাওয়া বন্ধ করে ঘরে আগল দিয়ে রাখেন।

এই চিঠিগুলাে পেয়ে তিনি আরও চিন্তিত হয়ে পড়লেন। মৌকে জিজ্ঞেস করেও নতুন কিছু তথ্য পাওয়া যায় না। তিনিও মেয়ের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবন্ধকতার ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

আবার দুদিন পরে তৃতীয় দফায় গণ্ডাখানেক একইরকম চিঠির আগমন, শুধু খামের রঙ, সাইজ ও ভিতরের লেখাগুলাে আলাদা, কিন্তু চিঠিগুলাের বিষয়বস্তু একই। আপনার মেয়ের পড়াশুনা বন্ধ করবেন, না কি ছেলের পড়া বন্ধ করতে উপদেশ দিচ্ছেন— এমন সব লেখা। কেউ একজন লিখেছে—যদি আপনার মেয়েকে ঠিক রাখতে না পারেন তবে ছােটখাটো একটা চাকরিতে ঢুকিয়ে | দিতে পারেন যাতে করে সে আমার ছেলের মাথা না খেতে পারে!

চতুর্থ দফার চিঠিগুলাে পেয়ে মহেশবাবু সেগুলাে না খুলেই থানায় গিয়ে উপস্থিত হন। পুলিশে রিপাের্ট করেন। সেখানে চিঠিগুলাের ভিডিয়াে রেকর্ডিং করা হয়। থানা থেকে সন্দেহ করে বিমলকে। তাকে থানাতে ডাকানাে হয়। বিমল এসব চিঠি লেখার কথা অস্বীকার করে। সে জানায়—মৌসুমীর প্রতি তার কোনও

ক্ষোভ বা বিদ্বেষ নেই। অগত্যা মহেশ্বরবাবু বাড়ি ফিরে আসেন। | বাড়ি ফিরেই দেখেন চারজন অপরিচিত লােক সেখানে

উপস্থিত। তাদের নালিশ শুনে তিনি অসিতের বাবার কাছ থেকে চিঠিগুলাে নেন এবং পড়েন। নিজে কোনও চিঠি লেখার কথা তিনি অস্বীকার করেন। তারপর নিজের পাওয়া চিঠিগুলাে আগন্তুকদের দেখিয়ে বলেন—এই চিঠিগুলাের মধ্যে কে কোন কোন চিঠি লিখেছেন বেছে নিতে। সকলেই চিঠি লেখার কথা অস্বীকার করেন। ফলে মহেশ্বরবাবু বলেন—তাহলে কে এই সব | চিঠির অস্ত্র প্রয়ােগ করেছে? আমি তাে এখন থানা থেকে ঘুরে

আসছি, পুলিশে রিপাের্ট করে। | পুলকের বাবা বলেন—যেই করুক, আমি সেটা নিয়ে মাথা ঘামাব না। ঘটনাটা পুরােটা না হলেও সত্যি। তাই নিজের ছেলেকে শাসন না করে যে লাই দেয় সে তার সন্তানের শত্রু। বােধহয় চাণক্য এই কথা বলেছিলেন। এ কথা বলেই তিনি সে বাড়ি ত্যাগ করেন। | জয়ন্তর বাবা বলেন, আমি ছেলেকে কলেজে দিয়েছি ডিগ্রি হাসিল করতে, বৌ উপার্জন করতে নয়। এখন তার প্রেমের কচি বয়স। এক্ষুনি সাবধান না করলে তার এই পর্যন্তই, কথায় বলে— hit the iron when it is hot. আমি চলি।।

অসিতের বাবা বলেন, এক মেয়ের পিছনে চার চারটে ছেলে ? তালে বুঝতে হবে—মেয়ে যেমন মােহময়ী ছেলেগুলােও তেমনি অকম্মার হাঁড়ি। আমার ছেলেরই যত দোষ। মেয়েদের পিছনে লাগতে লাইনে দাঁড়িয়েছে? ওর ঘাড় থেকে আমাকে এক্ষুণি এই ভূত নামাতে হবে। | নীতিশের বাবার মত, আমার ছেলে প্রথমে স্বীকার করতে রাজি হয় নাই। যেমন কুকুর তেমন মুগুর না-হলে আসল কথা বেরােবে । আমাকেও এর বিহিত ব্যবস্থা করতে হবে। একে একে সবাই ফিরে যান।

সবার প্রস্থানের পর সেখানে বিমলের বাবা আসেন। তিনি এসে শােনেন অন্য চারজন এসেছিলেন যাঁদের প্রত্যেকের উপযুক্ত ছেলে আছে। মহেশবাবু বলেন, আপনার দেওয়া চিঠিগুলােতে কাজ হয়েছে। সবকটা শয়তান ছেলের বাপেরা এসেছিলেন। আপনার

লেখা চিঠিগুলাে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন, এখন যার যার ছেলেকে শাসন করতে বাড়ি ফিরে গেছেন।

একথা শুনে গৌরীনাথবাবু অবাক। তিনি তাে কোনও ছেলের বাবাকে চিঠি লেখেন নাই। তিনি এখানে এসেছেন মিউচ্যুয়াল করতে।

মহেশ্বরবাবু বলেন, তা হলে আমাকে লেখা চিঠিগুলাে আপনিই লিখেছেন! তাই বুঝি সেগুলাে মার্জিত ভাষায় লেখা হয়েছে! আর ওদেরগুলাে? কোনও একটা অমানুষ লিখেছে। কে হতে পারে সে?

গৌরীনাথবাবু বলেন, সে যে-ই হােক, আমার মাথাব্যথা নাই। চলুন থানায়, FIRটা withdraw করতে হবে।

থানা থেকে বাড়ি ফিরে এসে গৌরীনাথবাবু সরমাকে বলেনআমার চিঠিতে ভালাে কাজ হয়েছে। | মহেশ্বরবাবু এবার বুঝেছেন—আমার ছেলে নয়, আসলে তার মেয়েই খারাপ।

সরমার উত্তর—না, মেয়েটাও খারাপ নয়, আসলে ঐ ছেলেগুলােই খারাপ। তাদের উপযুক্ত শাস্তিও তারা পেয়েছে। সে কাজটা করেছে তােমার বিমল। একটু আগে সে এসে বলেছে— সে চিঠি লিখে এমন ধোঁয়া ছেড়েছে যে মৌমাছিগুলাে মৌচাক ছেড়ে পালাতে বাধ্য।

শুনে গৌরীনাথবাবু বলেন, আমার ওষুধও কম নয়, একেবারে অ্যালােপেথিক টিটেনাস, হােমিয়ােপ্যাথির লিডস পথ, বায়ােকেমিকের কেলি ফস বা আয়ুর্বেদের পুঁই শাকের পাতা বাটা, যেটাই বল একেবারে রাম-বাপ। এখন মেয়ের বাবাও বুঝে নিয়েছে যে তাদের মেয়েও ধােয়া তুলসী পাতা নয়।।

(তিন)।

একদিন বিমল একটা বেনামি চিঠি পায়। খামটা খােলে। তার ভিতরে ছােট একটুকরাে কাগজ। কাগজের লেখাটা পড়ে। পড়ে অবাক হয়। তাতে লেখা—আপনার ছেলেকে সাবধান করুন। আমার পিছনে যেন না লাগে। আমার মান সম্মান আছে। আগুনে হাত দিতে হলে আগে হাতে কিছু লাগিয়ে নিতে হয়, না-হলে হাত পােড়ে। | এটা কার চিঠি হতে পারে সে ভেবে পায় না। তবে এটুকু বুঝতে পারে অন্য কারাে চিঠি তার খামে চলে এসেছে। তাকে লেখা চিঠিটা হয়তাে এ চিঠিটা যার, তার কাছে গিয়ে থাকবে। সন্ধ্যার সময়ে তাকে তার বাবা বলেন—আজ আমার কাছে একটা চিঠি এসেছে। খামের উপরে আমার নাম, ভিতরের চিঠিটা আর কারাে। দেখতাে এটা তাের চিঠি কিনা ?

বিমল চিঠিটা হাতে নিয়ে বলে, আমাকেও কেউ বেনামি চিঠি দিয়েছে। তার মধ্যে আমার চিঠি নাই, অন্য কারও। সেটা তােমার চিঠি হতেও পারে। হয়তাে চিঠি তােমার খামে আমারটা ভুল করে ঢুকিয়েছে, আর আমার খামে তােমারটা। নিয়ে আসছি। নিজের ঘরে গিয়ে চিঠিটা এনে তার বাবার হাতে দেয়। বাবাকে দেওয়া চিঠিটা পড়ে। তাতে লেখা—

সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে ফুলডােরে বাঁধা ঝুলনা।

সেই স্মৃতিটুকু বুঝি খনে খনে শুধু জাগে মনে ভুল না।। | ব্যস, এইটুকুই। কে লিখেছে, কেন লিখেছে, কোখেকে। লিখেছে, কিছুই নাই। ওদিকে মহেশ্বরবাবুকেও অনুরূপ একটা চিঠি যায় যেটাতে লেখা ছিল—মেয়ের বিয়ে কি পাড়া-পড়শিরা ঠিক করবে? না কি, মেয়েকে আইবুড়াে করে রাখবেন? আমরা তাহলে। আছি কিজন্য? | চিঠিটা হাতে পেয়েই মহেশ্বরবাবু চিন্তিত। বছর দশেক আগে মেয়েটাকে নিয়ে এই রকম কোনও একটা চিঠির ঝামেলা হয়েছিল। আজ আবার! প্রেরকের নাম ধাম গ্রাম কিছুই নাই। তবে এটুকু বােঝা যাচ্ছে যে একটা ছেলে তার মেয়েকে বিয়ে করতে চায় তাই তিনি মৌসুমীকে ফোন করেন। মৌসুমী জানায় তাকেও একটা উড়াে চিঠি কেউ পাঠিয়েছে। সেটাতে লেখা হয়েছে—চিরদিনই তুমি যে আমার, যুগে যুগে আমি তােমারই। কিন্তু কে লিখেছে বা পাঠিয়েছে নাম ঠিকানা কিছুই লেখে নাই। | কয়েকদিন পরে বিমল আবার একটা চিঠি পায়। সেটাতে লেখা—কেন কিছু কথা বলেনা? শুধু চোখে চোখে যা কিছু চাওয়া তােমার আমার, একি ছলনা! এইটুকুই। রাতে চিঠিটা হাতে নিয়ে বাবার কাছে যায়। বাবার বেনামি চিঠির খোঁজ করে। হ্যা, তার বাবার নামেও একটা বেনামি চিঠি ঐদিনই এসেছে। বাবার চিঠিটা দেখতে চায়। গৌরীনাথবাবু নির্দ্বিধায় চিঠিটা বিমলের হাতে তুলে দেন। বিমলও নিজের চিঠিটা বাবার হাতে তুলে দিয়ে যেন কিছুটা দায়মুক্ত হয়। তার বাবাকে দেওয়া বেনামি চিঠিটা সে পড়ে— আপনি তাে ভালাে লােক মশাই! আমি একটা মেয়ে বলে কি আমার কোনও দাম নেই? হতে পারে আপনার ছেলে ডাক্তার, আমার পিছু ছাড়ে না কেন? ছেলেকে জিজ্ঞেস করার সাহস কি আপনার নাই? | এবারও বিমল এই চিঠির কোন react না করে চুপ থাকে। ওদিকে মহেশ্বরবাবুও আর একটা চিঠি পান। তাতে লেখা— মেয়েরা আগেই বুড়ি হয়ে গেছে। আর আমি দশ বারাে বছর হাঁ করে তার দিকে তাকিয়ে আছি। না-ই যদি আমাকে আপনার পছন্দ হয় তবে অগা বগা খগা মার্কেটে কত ছেলে আছে কাউকে তাে গছাতে পারেন। আমি না হয় বাধা দেব না, কেবল চোখের জল ফেলব। ইতি… | এবারও তিনি কিছু বুঝতে না পেরে মেয়েকে ফোন করেন। মেয়ে মৌ জানায়, সেও একটা উড়াে চিঠি পেয়েছে চিঠিটাতে। | লিখেছে—মাের প্রিয়া হবে এসাে রানি, দেব খোঁপায় তারার ফুল।

এবার মহেশ্বরবাবুর মনে সন্দেহ জাগে। বছর দশেক আগে। | বিমল নামের ঐ ছেলেটাইতাে তার মেয়েকে হয়রান করেছিল। আর তার বাবা এই রকম করে বেনামি চিঠি পাঠিয়ে তাঁকে হয়রান করেছিলেন। আজ মেয়েকে সে কথা বলতেই মৌ বলে—কী জানি! গিয়ে দেখ। যদি সত্যি হয় তাহলে আচ্ছা করে চাঁটি মেরে এসাে, | যেন এমন কাজ করতে জীবনে আর কখনও সাহস না পায়।

মেয়ের কথায় সাহস পেয়ে তিনি ছােটেন বিমলদের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে দেখেন গেটের সামনে বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে—“ডাক্তার বিমল কান্তি সােম, এম.ডি.’। তিনি একটু ঘাবড়ে যান। মনে পড়ে বছর দশেক আগের কথা। ঐ চারটে বখাটে

ছেলের ভাগ্যে ডিগ্রিটাই জুটেছে মাত্র। তারপর চাকরি, তাও মাস্টারি। আর তিনি ভেবেছিলেন, বিমলের বােধ হয় লেখাপড়া আর হয় নাই। তাই এম. ডি. লেখাটা দেখে একটু ঘাবড়ে যান। মনে মনে যে কথার পাঁচ ফঁদছিলেন তা যেন গােল পাকিয়ে যায়। ভিতরে গিয়ে গৌরীনাথ বাবুর সঙ্গে দেখা করেন। আগমনের কারণ জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেন—আবার সেই বেনামি চিঠির ঝামেলা। ভেবেছিলেন, বিমল হয়তাে চিঠি পাঠিয়ে থাকবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বিমল নয়। তবুও এমনও হতে পারে, কে চিঠি দিচ্ছে বিমল হয়তাে সেটা জানে! | গৌরীনাথ বাবু মহেশ্বরবাবুকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন। একটু পরে বিমল ঐ ঘরে প্রবেশ করে। সঙ্গে আনে চারটে চিঠি, দুটো তার, আর দুটো তার বাবার নাম লেখা খাম। চিঠিগুলাে বেনামি। সেগুলাে পড়ে মহেশ্বরবাবু ফিরে যান। তবে যাবার সময়ে ক্ষমা চেয়ে যান। আর বলে যান-মৌসুমী কলেজে লেকচারারশিপ পেয়েছে, তবে দূরে থাকে। যদি এঁরা কিছু মনে না করেন তবে গৌরীনাথবাবু, বিমল বা তাদের বাড়ির যে কেউ তাদের বাড়িতে অথবা মেয়ের কাছে গিয়ে বেড়িয়ে আসতে পারেন। এরপর তিনি বেরিয়ে যান।

(চার) | কদিন পরে আবার দুটো চিঠি আসে বাবার ও ছেলের নামে, সেই উড়াে বা বেনামি চিঠি। এবার বাবার চিঠিতে লেখা রয়েছে— আমাকে কি আপনি চিনতে ভুল করেছেন? তাহলে অন্য একটা মেয়ের বাবাকে বেড়াতে যাবার কথা দেন কী করে? জানি, আমি ভুল করতে পারি, আর এটাই স্বাভাবিক, আপনি ভুল করেন কী করে? আপনার ছেলেকে শাসন করতে বলেছিলাম, বদলে আমাকে শাসন করছেন? আমার চিঠি লেখা কি আমার দিকে দৃষ্টি দিতে নয় ? হায়! আমারই কপাল পােড়া। এমন বােকা শ্বশুর না পাওয়ার চেয়ে একটা কানা শ্বশুর পাওয়া ভালাে। ইতি…

আর ছেলের চিঠিতে রয়েছে— Twinkle Twinkle Little Star, How I Wonder What You Are!

একদিন তুমি তােমার প্রেমিকাকে লিখেছিলে ‘You are my sweat love. আমিও আজ তােমাকে তােমার সেই কথাই লিখছি— URMY???

চিঠিটা পড়েই বিমল বলে ওঠে—ইউরেকা, পেয়ে গেছি। কে লিখেছে এ চিঠি ধরে ফেলেছি, আমার অস্ত্রেই, মানে আমার বেনামি চিঠির অনুকরণেই আমাকে কুপােকাত করতে চেয়েছে! কিন্তু পারবে না। তার আগেই আমি তাকে ধরে ফেলেছি।

বাবা বলেন, কে করেছে এ কাজ? বিমল সােল্লাসে বলে, ঐ মৌসুমী। ওরই কাজ এটা। মা বলেন, কি করে বুঝেছিস ? বিমল বলে, ঐ যে, আমি ওকে একদিন যা লিখেছিলাম ও ও আমাকে তাই লিখেছে। ও লেখা তাে ও ছাড়া সেদিন আর কেউ পড়তে পারে নাই।

মা প্রশ্ন করেন, তাহলে মৌসুমীকে আর তার বাবাকে কে চিঠি

পাঠাচ্ছে? | বিমল উত্তর দেয়, সে কাজও মৌসুমীর। তার বাবাকে সে কৌশলে প্রয়ােগ করতে চেয়েছে। নিজের উপরে কেউ যেন সন্দেহ না করে তার জন্য নিজেকেও আমার চিঠি আর আমার খামে বাবার চিঠি—সেও উদ্দেশ্যপ্রণােদিত। বাবা যাতে বুঝতে পারে কোন মেয়ে আমাকে ভালােবাসে এবং সে মাঝেমাঝে আমাকে চিঠি লিখবে সেদিকে যাতে বাবা নজর রাখে। কিন্তু ভুল করেছ যাদুমণি!

আমার লেখাই আমাকে উপহার দেওয়াই তােমার ভুল হয়েছে। | তােমার উদ্দেশ্য আর সফল হচ্ছেনা চঁাদু! আমি তােমার ফঁাদের | দিকে পা বাড়াচ্ছি না।

বাবা প্রশ্ন করেন, তুই অতটা কনফার্ম কী করে? | বিমল বলে, তুমি এক্ষুণি মৌ-এর বাবাকে ফোন কর এবং মৌকেও ফোন কর, দেখবে তারাও চিঠি পেয়েছেন। আর মৌএর বাবার চিঠিতে থাকবে ধমকানাের সুর, মৌ-এর চিঠিতে থাকবে আত্মহত্যার ভয় দেখানাে। আমার ফরমুলা তাই বলে। চন্দ্রবদনী! তুমি মৌচাক হয়ে আমাকে দংশেছ, আমি ঐ বিষ ঘরে তুলছি

! | একথা শুনে মা বলেন—তাের কথা যদি সত্যি হয় তাহলে ঐ মেয়েই আমার চাই। কারণ, তাের চেয়ে ওর বুদ্ধি অনেক বেশি। তুই সরাসরি ধমকেছিস বাইরের চারজনকে। আর ও? আপন করে ভাবা তিনজনকে চিঠি দিয়েছে। আর সেই সঙ্গে নিজেকে সন্দেহাতীত করতে নিজের নামেও চিঠি ছেড়েছে। বাবা বলেন— ওর অনুমানের সত্যতা যাচাই করে দেখা যাক। মােবাইলে পাওয়া নিজের নামের বেনামি চিঠিটা পড়ে শােনান—সাবধান! বিয়ের আসরেই মেয়ের দুর্নাম করে বিয়ে ভঙ্গ করা হবে। | এরপর মৌসুমীর সঙ্গে যােগাযােগ করা হয়। ফোন সংযােগ হতেই মৌসুমী স্বীকার করে সেও ঐ দিন একটা উড়াে চিঠি পায়। তাতে লেখা হয়েছে—তুমি আমাকে ছাড়া যদি অন্য কাউকে বিয়ে কর তবে তােমার বিয়ের আগেই আমি আত্মহত্যা করব। আর সুইসাইড নােটে এমন সব কথা লিখে যাব যেগুলাে শুনলে পরে তােমাকে কেউ কোনওদিন বিয়ে করবে না।

| গৌরীনাথবাবুর হাত থেক ফোনটা ছিনিয়ে নিয়ে সরমা বলেন—থাক মা, তােমাকে আর অভিনয় করতে হবে না। তুমি যত শীঘ্র পার ছুটি নিয়ে তােমাদের বাড়িতে চলে এস। আমরাও সেখানে আসছি।

ওপাশ থেকে মৌসুমী বলে, কেন?

সরমা বলে, আমার ছেলে বিমল। সে একটা চোর ধরেছে | যে! সেই কেসের যবনিকাপাত ঘটাতে।

মৌ বলে, বুঝলুম না।। সরমার উত্তর, চোরের বুঝতে সময় লাগে। কারণ ইচ্ছাকৃত;

বােঝার ভান। তােমার বাবাকে খবর দাও, আমরা পরশু দিনই | তােমাদের বাড়িতে যাব তােমাকে দেখতে। সঙ্গে বিমলও যাবে। কেননা তােমার হাতে হাতকড়াটা তাে ও-ই পরাবে।

ওপাশ থেকে মৌ-এর গলা ভেসে আসে-আচ্ছা, তাই হবে, আপনারা আসুন |

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *