চেতনার রং – কালীশঙ্কর রায়

গল্প সাহিত্য
Spread the love

একটি অজ পাড়াগাঁ। রাস্তাঘাট কাচা। এখনও গােরুর গাড়ির কঁাচ কঁাচ শব্দ শােনা যায়। সজী চাষিরা মাথায় করে তাদের মালপত্র নিয়ে বাজারে যাচ্ছে।

নিজঝুম দুপুর। পথের প্রান্তে বটের ছায়ায় বসে এক বৃদ্ধ শিক্ষক একটি বই মনােযােগ দিয়ে পড়ছেন। চোদ্দো-পনেরাে বছর বয়সের একটি নাদুস-নুদুস ছেলে এসে বটের ছায়ায় দাঁড়াল। | বৃদ্ধ শিক্ষক ছেলেটির দিকে তাকিয়ে তাকে l তায়। ইঙ্গিতে বসতে বললেন। ছেলেটি শিক্ষকের কাছাকাছি গিয়ে বসল]

শিক্ষক — তুমি কোথায় থাক? বালক :—এখানেই থাকি। | শিক্ষক — তুমি পড়াশুনা কর? বালক —আজ্ঞে হ্যা, আমি দশম শ্রেণীর

ছাত্র। শিক্ষক — এখন কোত্থেকে এলে? বালক —আমি এক সহপাঠীর বাড়ি থেকে

এলাম। এখন বাড়ি যাব। শিক্ষক — বাড়িতে তােমার কে কে

আছেন? বালক বাবা, মা, আমি ও আমার ছােট ভাই। আমরা মােট

চারজন। শিক্ষক — তােমার বাবা কি করেন? বালক —আমার বাবা চাষবাস করেন। শিক্ষক — তােমাদের কত বিঘা জমি আছে? বালক ঃ—আমাদের কোনও জমিই নেই। শিক্ষক — কেবল একটু মাথা গোঁজার ঠাই আছে। বালক ঃ—আমার বাবা একজন ভাগচাষি।

[শিক্ষক একটু নড়েচড়ে বসেন। তার হাতের বইটি তিনি ঘাসের বিছানার উপর রাখেন। বইটির উপরের পৃষ্ঠাটি টকটকে লাল। উপরে লেখা রয়েছে “এক পা আগে দুই পা পিছে।” লেখকের নাম লেনিন। বইটির রং বালককে আকৃষ্ট করে। সে জানতে চায় বইটিতে কি আছে এবং লেনিন কে!]।

শিক্ষক — দুপুর গড়িয়ে গেল। কিন্তু বইপড়া এখনও শেষ | হল না। বালক —কি আছে এই বইটিতে? এবং লেনিন কে? শিক্ষক :- বইটিতে বিপ্লবের তত্ত্বও তথ্য আছে। এর মধ্যে মূলত বিপ্লবের রণকৌশল রয়েছে। আর লেনিন

একজন মহান বিপ্লবী। ইনিই সর্বপ্রথম মার্কসবাদের সঠিক প্রয়ােগ করেছেন। এর নেতৃত্বেই সােভিয়েত রাশিয়া শােষণের কবল থেকে মুক্ত হয়েছে এবং সেখানে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই লেনিন বিপ্লবের রূপকার।

বালক —মার্কসবাদ কী বস্তু? শিক্ষক :- মাকর্সবাদ হল সর্বহারার মতবাদ। শােষণ অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে এ হল এক শক্তিশালী অস্ত্র। বালক —মার্কসবাদ জানব কি করে? শিক্ষক — বইপত্র পড়াশুনা করতে হবে। গণ আন্দোলনে যােগ দিতে হবে। শ্রমিক কৃষকের আন্দোলনে শামিল হতে হবে। শুধু চেয়ারে বসে বই পড়ে মার্কসবাদ জানা বা বােঝা যায় না। মার্কসবাদ হচ্ছে তত্ত্ব ও প্রয়ােগের সমবায়। এই মতবাদ বিজ্ঞানসম্মত মতবাদ।। বালক ঃ—আপনি কি আমাকে মার্কসবাদ শিক্ষা দেবেন? শিক্ষক ও নিশ্চয়ই দেব। কেন দেব

? তােমরা উঠতি যুবক। তােমরা আটটা নটার সূর্যের মতাে। তােমাদের উপর আশা ও ভরসা

রাখি। বালক আমাকে কী কী করতে হবে? শিক্ষক — তােমাকে সৎ, সাহসী ও পরিশ্রমী হতে হবে।

লড়াইয়ের ময়দানে নামতে হবে। নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সবসময় মনে রেখাে

Life is struggle, Life will assert itself. | বালক —আপনার কাছে অনেক কিছু জানলাম। আপনাকে

অসংখ্য ধন্যবাদ। শিক্ষক — জানার অনেক বাকি। গণ সংগ্রামে অংশ নিলে

আরও অনেক অনেক জিনিস ক্রমাগত জানতে পারবে। তবে একটা কথা সব সময় মনে রেখাে আমরা প্রতিদিনই জনগণের শিক্ষক ও জনগণের

ছাত্র। | বালক বেলা পড়ে এল এবার আসি! শিক্ষক — আচ্ছা বেশ। আমিও উঠব। সাবধানে বাড়ি

যাও। পথে দেরি করাে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *