চামেলী কেমন আছ – মা ধু রী চক্ৰবৰ্ত্তী

গল্প সাহিত্য
Spread the love

 চামেলী একটি ভালাে পরিবারে কাজ পেয়েছে, মাসির জন্য। তাও নিজের মাসি না। পাড়াতাে, কিন্তু চামেলীকে খুব ভালােবাসে মাসির অসুখ হল তাই কাজটি চামেলীকে দিয়ে গেল। দেশের বাড়ি চামেলীর অল্পবয়সে, তাই দেখে না করেছিল গিন্নিমা। কিন্তু এখন তাে একার সংসার নয়। বৌদের মতাে মতামত খানিকটা চলতেই হবে।

এদিকে আর চামেলী ধীরে ধীরে চামেলী গিন্নিমার কাছে গেল, শােন চামেলী, একদিন ও কামাই করলে আমাদের খুব অসুবিধা হয়। কামাই করবি না। দ্বিতীয় কথা শােন তার ফোন নম্বর দিবি যেদিন না আসবি অন্য লােক দিবি। ঠিক আছে গিন্নিমা। – চিন্তা করবে না। আমার মারে কইয়া দিমু।

| তার কারণ আমার ছােট বৌমা স্কুলে পড়ায়। আর বড় বৌমার কোলে ছােট ছেলে। আর একটি কথা শােন !) আমার রান্নার মাসি ৭টার আগে আসে না। তাই তােকে তার আগে এসে চা করতে হবে। পারবি তাে? চামেলী চুপ করে শুনল তারপর বলল গিন্নিমায়েরা কত দেবেন? তাের মাসিকে যা দিয়েছি তাই তােকেও দেবাে। না গিন্নিমা। আমাকে একটা। বেশি টেয়া দিতে হইব। কারণ আমি ভােরে আসুম হ্যা আমি ভােরে আইসা চা করুম আপনার চিন্তা করতে হইব না।

শােন একদিনও কামাই করবি না বাড়ির কথা তাে সবই জানালাম। আচ্ছা কাল থিকাই আমু। ছােট বৌ এসে সব শুনল, মা চামেলী। এত টাকা চাইল? আপনি হা করলেন? টাকাটা। কে দেবে? কেন তােমাদের বাবা, চিন্তা কেন করছ? তােমাদের বাবার এখন ক্ষমতা আছে। কাজেই টাকার চিন্তা করবেন না। ছােট বৌ একটু নিশ্চিন্ত হয়ে গেল। তারপরেই বড় বৌ এল, মা চামেলীকে রাখবেন? গিন্নিমা চুপচাপ একটু রেগে বলল শুনলে তাে? হ্যা বড় বৌমা কাল থেকে আসবে। ৬টায় আসবে। চামেলী ঠিক কথা রেখেছে। ৬টার আগে এসে আগে ঠাকুরঘর পরিষ্কার করেছে – তারপর রান্নাঘর পরিষ্কার করে সবার জন্য চা করে সবাইকে ডেকেছে।

কিন্তু ওর দেখি বড় জোরে জোরে কথা বলে, ছেলেদের কারও পছন্দ না। চঁচামেচি একদম পছন্দ করে না। একটু ধীরে ধীরে কথা বলবি গিন্নি বলে পুজোর ঘরে ঢুকে গেল। বড় ছেলে ৪টা ২০-এ বের হয়, আর ছােট ছেলে ঘরেই কম্পিউটারে কাজে

করে একটু কফি খেতে তাই বারে বারে চামেলীর ডাক পড়ে । | পরিবারে পয়সার অভাব নেই কিন্তু সংসারে কাজে কেউ হাত লাগাবে না। গিন্নিমা প্রতি বছর বেড়াতে যায়। সব তীর্থ দর্শন করিবেন বুড়াে কর্তা। তবুও প্রতি বছর পুরীতে যায়। তাই এবারও ঠিক করল যাবে। কিন্তু পায়ের ব্যথা মাঝে মাকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে, তাই একজনের সাহায্যে হলে ভালাে হয়। মনে মনে তাই ভাবছে— ওগাে শুনেছ, এবার যদি চামেলীকে সাথে নিয়ে যাই কেমন হয় ? কর্তা মাথা নেড়ে বলেন ঠিক বলেছে, কথাটি মন্দ

বলনি, গিন্নি ভয় পাচ্ছে, বাড়িতে কাজের কি হবে? সন্ধের সময় | দুই ছেলে এল। সব কথা বলল ছেলেদের। বড় খােকা এবার

বল কি কথা উচিত আমাদের। বাবা ঠিক কথা বলেছ তুমি, চামেলীকে সাথে নিয়ে যাও।

দুই বৌমারা শুনে চুপচাপ ঘরে চলে গেল, একটু পরেই বড় বৌমা এসে বলে চামেলী তাের জন্য খুলে গেল দেখ কে কার ভাগ্যে ঘুরে। | চামেলীও চুপচাপ শুনার পাত্র নয় ওমনি জবাব দিল, তােমরা কেও খেতে পারছনি তাই তাে গিন্নিমা আমাকে নিয়ে যাছে। ছােট বৌ বলল শুন চামেলী চুপচাপ লােক দিয়ে যাবি? ৫ – ৬ দিনের ব্যাপার। তােমরা চালিয়ে নিতে পারবে না ?

| দুই বৌ শুনে আগুন কি বললি এতাে কাজ আমরা করব কি করে? তুই না বুঝে কথা বলবি না। চামেলী তাে বক বক করেই চলেছে। দেখেছেন মা আপনার লাইতে মাথায় চড়েছে?

—ছােট বৌ আবার বলল চুপচাপ লােক দিয়ে যাবি। এই বেটাইমে লােক কোথায় পাই? আপনারা একটু ভাইবা দেখলেন না আপনারা খা খা করতে বলেন সকল কামই করি, দেখি লােক পাই নাকি?

চামেলী সব কাজ সেরে গিন্নিমার ঘরে একটু সময় বসে। তারপর বাড়ি যায়। গরিব বাবা অনেকদিন মারা গেছে। তাই বিয়ের ব্যবস্থাকেও করেনি এইসব কথা গিন্নিমা ভাবছে, মাঝে মাঝে দুঃখের ঝুড়ি খুইলা বসে গিন্নিমার কাছে। গিন্নিমা শুনে বলল কি রে চামেলী তাের একটি দাদা আছে না? আছে নামেই, কামের না।

| নিজে নাে লইয়া ব্যস্ত থাকি গিন্নিমা বলল- দেখ চামেলী যদি ভালাে ছেলে পাই – তবে তুই বিয়া করবি?

কি যে কন ? মা আমারে কেরা বিয়া করব? রূপ নাই টেয়া পয়সা নাই, আমাগাে মত গরিব ঘরের সায়াগাে বিয়া হওয়া মুশকিল। আমার মা দুই বাড়ি কাজ করে, তবে শুনচি আমরা যে জমি উপর ছাত্ৰা কইয়া আছি – সেখান নাকি সরকার নিয়া ঘর বানাইব। কিছু টাক দিলে সরকার কিছু ছাড় দিব। ফ্ল্যাট হইব।

কই খাইমু সেই চিন্তায় রাইতে ঘুম আসে না। মারে লইয়া কোথায় থাকুম। দিনে তাে সারাক্ষণ কাম কইরা বেড়াই। রাইতে মাকে লইয়া কি করমু? তবে একখানা ঘর দিব। দেশে আমার নামে কিছু জমি আছে বিক্রি করলে কিছু টাকা পামু – তাই ইছা আছে একখান ঘর নিম। এখন আপনাদের আশীর্বাদ।

পুরী যাবার দিন এসে গেল। চামেলী তার পাড়াতাে পিসিকে বলে দিয়েছে গিন্নিমার বাড়ি কাজের কথা।

পিসি শুনেই বলল কাম করতে পারি কিন্তু ঐ কয়েক দিনের টেয়া আমারে দিবি তাে? চামেলী হা করল। পিসির এক ছেলে সােনার দোকানে কাজ করে ভালােই পয়সা করেছে – একবার চামেলী কিছু টেয়া জমিয়ে একটি কানের পাশা করেছে – তাই পিসির ছেলের একটু নজর আছে চামেলীর উপর। তবে চামেলীর মা মুখ ওর কাছে কেও ঘেঁষতে পারে না।

পুরীর মন্দির দবশ করে সমুদ্রের ধারে বসেছে – তারপর ওরা একটি ভালাে খাবারের দোকানে ঢুকে বসেছে তখনি দেখে একটি লােক চামেলীকে দেখছে। দূর থেকে দেখেই দুইজনেই চমকে উঠেছে। চামেলী চুপচাপ উঠে এসেই গিন্নিমাকে বলল ঘরের চাবিখান দেন কি হল? না কিছু না আমার শরীরটা ভালাে লাগতাছে না আমি ঘরে যাইমু। এইনে, ছুটে চামেলী রুমের কাছে এল – পিছে পিছে আর আগের স্বামী গেল চামেলী ও চামেলী।

| একবার আমার কথা শুন আমি এখন ভালাে হইয়া গেছি। ভালাে কা মকরি তােরে ভালাে রাখুম। তুই আমার কাছে আসবি

– যেদিন আমারে মাইড়া ঘর ছাড় করলি, সেদি মনে ছিল ? সেদিন কই ছিলি? আর আমার খোঁজখবর করিস নাই। আমারে দেইখা ভালাে ভালাে কথা কই তাছি। তাের লগে আবার কেন যে দেখা হইল। তারপর তার স্বামী গিন্নিমার থেকে ফোন নম্বর নিল। গিন্নিমা রুমে ফিরে এলাে। চামেলী সব বলল কলকাতায় ফিরে আবার কাজ ধরল। এক বছর কেটে গেল। হঠাৎ একদিন চামেলীর আগের স্বামী এল গিন্নিমার হাতে পায়ে ধরে ক্ষমা চাইল। শেষে সবকিছু বলল গিন্নিমাকে – আমি ভালাে কাজ করি, ছােট এক টুকরাে জমিও কিনেছি আমি চামেলীকে ভালাে রাখুম। আর কষ্ট দিমুনা চামেলীকে এর মধ্যে চামেলীর মাও মারা গিয়েছে। যা চামেলী স্বামীর ঘর কর গিন্নিমা নিজেই ছােট একটি অনুষ্ঠান করে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে দিল। মাঝে মাঝে ভাবে গিন্নিমা কেমন আছে চামেলী। এই ভাবনাগুলাে মাঝে মাঝে মনকে ঘুরে ঘুরে মায় মেয়ে মতাে বিদায় করল, তাই ভাবে চামেলী ভালাে আছে তাে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *