কর্ণ দুর্যোধন সমাচার – সুব্রত নন্দী মজুমদার

কবিতা সাহিত্য
Spread the love

কল্য রজনী প্রভাতে বাজিবে সমরডঙ্কা

কুরুক্ষেত্র প্রাঙ্গনে। দ্বিধাগ্রস্ত মনে শয্যায় শায়িত।

একাকী কৌরব জ্যেষ্ঠ দুর্যোধন।

চিন্তামগ্ন রাজপুত্র আপন শয়নকক্ষে।

হেনকালে আসিলেন রাধেয় কর্ণ দুর্যোধন সমীপে।

জিজ্ঞাসেন গান্ধারিপুত্রে, কি হেতু বিমর্ষ বদন?

সত্যিই কি প্রয়ােজন আছে এই মহারণের?

কহেন দুর্যোধন, শুধু সিংহাসন লাগি?

মনে দ্বিধা মাের।

যাদের সাথে আত্মার বন্ধন, ধরিতে হইবে অস্ত্র

তাদের বিরুদ্ধে ? না মিতা, বন্ধ কর

এই আয়ােজন। নাহি চাই সিংহাসন,

রাজ্য নাহি চাই। তােক রাজা জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা যুধিষ্ঠির।

নাহি খেদ মাের,

যুধিষ্ঠিরে রাজা মানি শান্তিতে দিবস

করিব যাপন। এই ভাবি মনে।

রুধি উঠি কহেন কর্ণ,

ছিঃ সখা, এই ছিল তব মনে?

তােমারই মুখ চাহিয়া আমি করিনু শপথ,

বধিব অর্জুনে সম্মুখ সমরে।

শপথ রাখিবার লাগি আমি পণ করেছিনু

তােমারে করিয়া সখা পরাজিত করিব

পাণ্ডবভ্রাতাগণে।

একি কথা শুনি আজ তােমার মুখে ?

ওঠ সখা, কর শয্যাত্যাগ।

সজ্জিত হও সমরসজ্জায়, ধর অস্ত্র,

আমি কবচ-কুণ্ডলধারী কর্ণ তােমার সহায়।

শুনি কহেন দুর্যোধন ক্ষম সখা, ক্ষম মােরে।

ঘুচাতে নারি মনের সংশয়। রক্তপাত, শুধু রক্তপাত।

চারিদিকে মৃত আত্মীয়স্বজন।

বধিতে হইবে শত সহস্র সেনারে,

আমি পারিব না, সিংহাসন লােভ ত্যাগ করি তাই!

যাও মিত, কই পিতামহ ভীষ্মে।

বন্ধ করিতে এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম।

গর্জি ওঠেন রাধেয়, ভীরু কাপুরুষ তুমি।

সখা বলে পরিচিতে হয় লাজ মাের।

এত শুনি দুর্যোধন হয়ে ক্রুদ্ধ, বলেন অঙ্গরাজে,

বৃথা গঞ্জিছ মােরে, কাপুরুষ নহি আমি।

পাণ্ডব ভয়ে ভীত নহে গান্ধারিসূত দুর্যোধন। সমরাঙ্গণে

পারি দিতে সেই পরিচয়।

পাণ্ডব ভ্রাতাগণে পারে নিঃশেষিতে

একা দুর্যোধন রাখে হেন স্পর্ধা।

তাই কর বন্ধু, শীঘ্রই সেনাপতি পিতামহ ভীষ্ম

বাজাবেন রণবাদ্য। প্রস্তুত হও তার লাগি।

তুলে দেন অস্ত্র সখার হয়ে মিতা কর্ণ।

নিশাবসানে বাজিয়া উঠিল তূর্য,

কুরুক্ষেত্র প্রাঙ্গন উঠিল মাতিয়া

অস্ত্রের ঝনঝনানিতে, আর অশ্বখুরের ধ্বনিতে,

আঠারাে অক্ষৌহিনী সেনা দুই পক্ষে,

হল না বন্ধ কুরুক্ষেত্র সমর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *