আজাদী কা জুলুস – নলিনী বেরা

গল্প সাহিত্য
Spread the love

দামােদর কারাে কোয়েল কোয়না সুবর্ণরেখা—হতে পারে যে কোনও নদী। আর নয়তাে নেংসাই টাটুকো কুমারী কী কংসাবতী।

নদীধারের গ্রাম, টিলার উপর। টিলার কাছে-দূরে বন-ডুংরি।। কত রকম গাছপালা—শাল-সিমােল-কেঁদ-কুসুম! | বনধারে গরু চরে, ছাগল চরে। শূওর ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে মাটি খুঁড়ে। মােরগ-মুরগা ডাকে। মাঝে মাঝে শিয়াল-হুড়ার ভাম-খাটাস এসেও দু-চাট্টা নিয়ে যায়। আর হাঁ, গাঁওমে রাত-ভিত হাতি ভি আসে!

| টিলার উপর টোলা, বিশ-পচিশটা কোঠিবাড়ি বা। টুটা-ফুটা ঘর কী আর নেই? আছে, আছে। বারিষমে ‘ঘর সে পানি চুহত।। হাতি এসে ঘর-উর ভেঙে দেয়। আদমী ভি জখম করে।

গাঁওয়ে ইস্কুল আছে, ছােট-বড়। একটা পােষ্টাপিস আছে। ডাগতরখানা। চাল-ডাল-নুন-তেলের ভারি দুকান দুতিনটা। একটা তাে নৌরঙ্গীলালের।

কিন্তু বাসদেও গােপ খুবই গরীব। তার একটাই ভঁইশ আছে। দুধ বেচে কোনও মতে চলে। খেতি-বাড়ি তেমন কিছু নেই। যেটুকু আছে তাতে মকাইয়ের চাষ করে।।

বাসদেও-এর মা-মরা একটাই মেয়ে। ফুলমােতিয়া। একটা তাে ? নয়, জন্মেছিল তিন-তিনটা! কিন্তু নসীব, ঢেরি-ঢেরি দুখ কী বাত, জন্মানাের পরে পরেই সব মারা গেল।

আচম্বিত গাঁওমে এক সাধুবাবা এসেছিল। বলল, “বাসদেও, যব তক্ শাসা, তব ত আশা।” তােমার আশা পূরণ হবেই, এবারের মেয়েটা বাঁচবে। তবে এক শর্তে

কী, বাবা? | ডাগর হলে লেড়কিটাকে সাদি দিতে হবে গয়াসুরের সঙ্গে। সঁপে দিতে হবে তার হাতেই। ডরাে মৎ! ভরােসা রাখাে! সব হি গুরুজী কা কৃপয়া!

ফুলমােতিয়া বাঁচল, তবে তার মা-টা বাঁচল না। বাপ খেতিবাড়িতে কাজ করে, ফুলমােতিয়া ভঁইশ চরায়।

| শুধু কী ভঁইশ, কটা ছাগল, গরু-ভেড়াও আছে, আর আছে ‘বিন্ধিয়া। প্রাণের সখী, সহেলী। সেও ছাগল-চরানী। একই গাঁয়ের। | ডুংরির ভিতর তাদের গরু-ছাগল চরে, ঘাস-পাতা খায়। আর তারা নিজেদের টোলিতে দেখা নওটংকি’ করে। রাজা’ সাজে, নাচনী’ সাজে—

“আধা পেট খাই খাই হম রাজিয়া রে গােলিকে ভােজন হমর গােলিকে খানা হমর হম রাজিয়া রে।”

প্রাইমারী ইস্কুলের মাস্টরজী একদিন দুজনকেই ধরে নিয়ে গিয়ে ভরতি করে দিল ইস্কুলে। শুধু উইশ চরালেই হবে? পঢ়হাইলিহাইও করতে হবে, কেমন রে মমাতিয়া ?

ফুলমােতিয়া ঘাড় নাড়ল। হাঁ জী।

ঐ ভরতি আর ঘাড় নাড়া-ই সার হল। প্রাইমারী ইস্কুলের গুলঞ্চ ঝােপের পাশ দিয়ে রােজ এটা-ওটা খাওয়াতে খাওয়াতে তাদের গরু-ছাগল ভেড়া-ভঁইশ চরাতে ডুংরিতে নিয়ে যেত ফুলমােতিয়া আর বিন্ধিয়া।

আসলে ঐ পথ ধরে গাে-চারণে যাওয়াও হত, আবার প্রাইমারী ইস্কুলের জানলার কাঠের ভাঙা-চোরা বাতার ভিতর দিয়ে দুদণ্ড মাথা গলিয়ে গাওয়ালি সহেলীদের দেখাও হত। ফুলমণি ঝুপাঝুমরি-কুন্তাদের সঙ্গে | তা নয়, ভর্তি! একেবারে পাকাপাকি ব্যবস্থা! “হায় রে বিটিয়ন কে ভাগ!” তাজ্জব কী বাত!

রাস্তাটাই পরিহার করল তারা। বাবা বাসদেও বলল, কারে বিটিয়া, তু ইস্কুল যাতে নহী?

না হৈ বাপু। ইস্কুল যানে সে হমনি কে কা ফায়দা!

তবে হাঁ বৎসরন্তে একটা দিন সে ইস্কুলে যেত, যেতই। পনেরই আগস্ট, আজাদী কা দিবসে। ইস্কুলে ছুটি থাকলেও সেদিন খানাপিনা হত। নাচা-গানা। রামধুন— | “রঘুপতি রাঘব রাজারাম, পতিত পাবন সীতারাম।

জয় রঘুনন্দন জয় ঘনশ্যাম, জানকী বল্লভ সীতারাম।।” সব লিখহাই-পঢ়হাইকারীদের বলা হত—ইস্কুলে আসতে, আজাদী কা ‘জুলুস বেরুবে। প্রভাত ফেরি। | দোপাটি, দু-পহরিয়া, আরও নানাবিধ ডুংরির বুনাে ফুল দিয়ে সেদিন মালা গাঁথত ফুলমােতি, বিন্ধিয়ারা।।

জুলুস’ বলতে ‘জুলুস’! অনেক গাঁও টোলা-টুলি পরিক্রমা করে মিছিল যখন টিলার শিউমঞ্জিলের উপরতক উঠে যেত, উপর থেকে নিচের চারধারটা দেখা যেত, তখনও জুলুসের মাথাটা হয়তাে মঞ্জিলের সিঁড়িতে আর ল্যাজটা কোনও গাঁও কী অন্দর মে, ফুলমােতিয়া হিসাব রাখত গেল বরষ এমনি সময়ে জুলুসের কোথায় কোন ভাগে সে ছিল। আর চলতি সনে—

আসলে জুলুসের পিছন দিকে থাকলে পঙক্তি-ভােজনেও পিছনে পড়তে হত। তারজন্যই প্রভাতফেরিতে যােগ দিতে এতটা হুড়ােহুড়ি! সারা বৎসর ইস্কলে না গেলেও আজাদীর দিন ইস্কুলে যেতে ফুলমােতিয়া-বিন্ধিয়াদের এতটা ঝটাপটি!

আর ভােজন? সেটাই ত লাখ কথার এককথা, তার লােভে লােভেই তাে বিন্ধিয়া-ফুলমােতিয়াদের ‘জুলুস-চর্চা’!

মণ্ডা-মিঠাই তাে থাকেই, সেই সঙ্গে থাকে ঘিয়ে-ভাজা পরােটা আর ক্ষীরি-পরসাদ, পায়সান্ন। শিউমঞ্জিলের পুরােহিত ভগবতীপ্রসাদ পায়সান্ন যা রাঁধে না! বাংগালী বাওন’-কেও হার মানায়।

সেবারটা ভারি দেরি করে ফেলেছিল ফুলমােতিয়া, এমন কী বিন্ধিয়াও তার আগেই জুলুসে হাজির।

কদিন ধরেই ছাড়া ছাড়া বারি হচ্ছিল। সকালে হয় তাে বিকালে ফঁাকা। তা বাদে সুরজদেও-য়েরও তেজ ততটা প্রখর ছিল

। শুকোয়নি সােড়া-মাটিতে কাচা মােতিয়ার ফ্যান্সী জামাটা। | নৌরঙ্গীলালের দুকান থেকে বাপু নতুন একটা কিনে আনলতবেই

!

| সাপলুডাে খেলার মতােই ফুলমােতিয়া একেবারে নেমে গেল জুলুসের ল্যাজের দিকে! তা হােক, তবু তাে নতুন জামা! মােতিয়াকে দুখ নাহী বা।

মিছিল এগুচ্ছে, এগুচ্ছে। আশমানও কখন হাসছে, কখন মুখের উপর কাপড় ঢেকে দিচ্ছে নওটংকির পারা।

দেখতে দেখতে জুলুসের মাথাটা শিউমঞ্জিলের চাতালে উঠে গেল। তখনও জুলুসের ল্যাজটা তাতিয়াটোলির ‘কুলহি-মুড়হায় ঘটাচ্ছে। ফুলমােতিয়ারা শিউমঞ্জিলের আগের গাঁওটায় ঢুকে পড়ল।

অবশেষে তারা যখন মঞ্জিল-চাতালে পৌঁছাল, ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে পঙক্তি-ভােজন। হরিজন চামার মুসহর দুসাদ ভূমিহার রাজপুত—সব এক পঙক্তিতেই! কোঈ ভেদাভেদ নাহি। আজাদী

কা দিবস বা—এ্যায়সা মিজু হতেই

তখনও পঙক্তির শেষ জনের ‘পাতে’, শালপাতার ‘থালি’-তে, মণ্ডা-মিঠাই, পুরি-পরোটা পড়েনি, ক্ষীরি-ভােগ তাে শেষ দফে— তখনই কী না পঙক্তির প্রথমজন শুরু করে দিয়েছে হাপুস-হুপুস! | মাষ্টরজীরা চেঁচাচ্ছে সামহাকে। সাহালকে! বি ডিসিপ্লিন্ড! শৃঙ্খলা রক্স কীজিয়ে! পহলে তাে সকো থালি মে খানা দেনাই পড়েগা—ত না—

কে শােনে কার কথা! ভলন্টিয়র’রা এন.সি.সি’র খাকি ড্রেস পরে গলায় রুমালের ‘টাই’ বেঁধে মুখে হুইশিল’ বাজিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে ধমকাচ্ছে। | আর ওদিকে পশ্চিমের আশমানে মেঘ ‘ঘুনাচ্ছে’, ‘অধেরে’ হয়ে আসছে। ফুলমােতিয়ার পাতে তখড়ও একটা দানাও পড়েনি! হাপিত্যেস করে বসে আছে সে।

| ‘ভলেন্টিয়ার’ বাবু ফুঃ ফুঃ করে বাঁশি বাজিয়ে তার পাশ দিয়ে | দৌড়ে গেল, সে তার হাফ-পেলের কানাচ্ টেনে ধরে বলছে, এঃ ফুঃ ফুঃ বাবু, জদি করাে, হমনাকো কক্ মিলেগা? তু কা ইধর-উধর ঘুমতা! মালুম নাহী—বারি আ রহা ?

বৃষ্টি আসার আগেই অবশ্য থালিতে খাবার পড়ল। লাড়ু মিঠাই। ভেঙে গুঁড়াে গুঁড়াে করে মউজে খেতে থাকল ফুলমােতিয়া। শুধু কী ফুলমােতিয়া, আগে এসেও ঐ তাে বসে আছে বিন্ধিয়া। | সাবাড় করে ফেলেছে লাড্ড—পুরি-পরৌটার জন্য হাত গুটিয়ে বসে আছে এখন। কা রে, খুব তাে খাবার লােভে আগে আগে এলি? হামার সহেলী ইস দুনিয়ামে ঔর কোঈ নাহী। নাহী, নাহী।

পুরি-পরৌটাও পড়ল। ফুকা, মগর ঠাণ্ডী! ডহরের ডাল, | ডালটা কিন্তু গরম। চেটেপুটে খাচ্ছে মােতিয়া। আর আড়ি-আড়ি ভাব করে দেখছে বিন্ধিয়াকে।

কা রে, তােহর ঝাণ্ডা’ নাইকে বা? হা দেখ্ হমর— মাঝে মাঝে পাশে রাখা জাতীয় পতাকাটাকে তুলে ধরে দেখাচ্ছে ফুলমােতিয়া। ইস্কুলে লেখা-পড়া না করুক, তবু তাে সে একাট অশােকচক্র আঁকা সবুজ-গেরুয়া ঝাণ্ডা’ পেয়েছে!

পাতে এবার এসে গেল ক্ষীরিভােগ, ক্ষীরি-পরসাদ! আর কোনও দিকে তাকা-তাকি নেই, বিন্ধিয়া এবার যা পারে করুক! যা পায়

খাক!

| দু-এক মুঠো খেয়েছে কী খায়নি, পশ্চিমের মসীকৃষ্ণ মেঘ হুড়ঝুড়িয়ে এসে গেল! ঢালছে গল্পদিয়ে। থালি মে পানি চুহত! পানি। ফুলমােতিয়া দু-হাতের কনুই জড়াে করে আটকাচ্ছে পায়সান্ন। দুগ্ধমিশ্রিত সফেদ অন্ন বৃষ্টির ধারার সঙ্গে মিশে বেরিয়ে যাচ্ছে ‘দুধ’ হয়ে।

মষ্টরজীরা মঞ্জিলের অন্দরে নিরাপদে, নির্জলা দাঁড়িয়ে হাঁক পাড়ছে—কা রে বিটিয়া, ভিজা কিউ? থালি ছােড় কর তু আ যা! ফুলমােতিয়ার নওটংকি-মার্কা নতুন ফ্রকটা ভিজে একশা হচ্ছে।

তবু ছােড়ে গা নাহী। বলে বছরে একটা দিন তাে এই খেতেই  ইস্কুলে আসা!

বৃষ্টির ফোটা যতই বড় বড় করে আসছে, পায়সান্নের উপর তার ধারাস্রোত যতই প্রবল হচ্ছে, জলের ধারা-বেগে ক্ষীরিভােগের দুধ-সাদা ক্ষীর যতই ধুয়ে যাচ্ছে, ততই আগ্রাসী ফুলমােতিয়া তার দু-হাত চেপে ধরে শালপতার থালি আটকে রাখছে!

আশপাশে আর কেউ-ই নেই, বৃষ্টির তােড়ে পঙক্তি ভেঙে যে-যার উঠে গিয়েছে মন্দিরে, এমন কী সহেলী ‘বিন্ধিয়াও আর নেই, পড়ে থাকা পায়সান্ন নিয়ে শালপাতার ‘থালিগুলাে ঝড়বৃষ্টির ঝাপটায় সর সর করে চাতালময় চরকির মতাে ঘুরছে!

দালানের পৈঠায় দাঁড়িয়ে ‘পাত্’ থেকে উঠে-যাওয়া বাকি ছাত্র-ছাত্রীরা তার কিত্তিকাণ্ড দেখে তার দিকেই হাত বাড়িয়ে হাসাহাসি করছে, আর বলছে, লে লে ফুলমােতিয়া খা লে— হাপুস হুপুস—পানি অইল ত কা হৈ! পানি মে মাখ লাে!

| যে যাই বলুক, যতই হাত-নাড়ানাড়ি করুক, পাত ছােড় কর ভাগে গা নেহী! হমম্ এক মুঠী মিঠাই-অন্ন আভীতক খা নেহী সত্য!

মাথা ঝুকিয়ে খাবার চেষ্টা করে ফুলমােতিয়া। কিন্তু হাত ছাড়ালেই শালপাতার থালি ঝড়ের তাড়াশে উড়ে যাবার জোগাঢ় ! বেশ বেশ, হনিকে খানা ন হৈ, পায়সান্ন পরসাদের সুরকে লিয়ে মগর হাত-চাপা তাে দিই!

দু-হাতের আঙুলের খাঁজে খাঁজে আঙুল ঢুকিয়ে আচ্ছাদন তৈরি করে ক্ষীরিভােগের উপর হাত-চাপা দিল ফুলমােতিয়া। বৃষ্টির বেগ বাড়ছে বৈ কমছে না। মাথার চুল ভিজে জল গড়াচ্ছে টস টসা। তার ভিতরেই এক খাবল’-দু খাবল’ খাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফুলমােতিয়া।

মাষ্টারজীরাও শুকনাে শিবমন্দিরের অন্দরে দাঁড়িয়ে থেকে হাসাহাসি করছে, আর বলছে, এ্যায়সা মৎ করাে মােতিয়া! হমারা আজাদী ঝুটা হাে যায়ে গা! তুরন্ত মঞ্জিলকে আ যাও বিটিয়া! আ যাও! ইনা বারিষমে তু কা ভিজতেই—

কিন্তু তারা আর বলতে পারছে না, এখানে উঠে আয়, উঠে এলেই তােকে আরেক হাতা গরম ক্ষীরিভােগ দেওয়া হবে। কেন

, তাকে দিতে গেলে, দিতে হবে সবাইকেই। কারােরই তাে খাওয়া হয়নি ‘ফুল’ পেট না হােক, আধ-পেটাও। ভঁড়ারে অত কী আর আছে! | আর সেটা ভালাে মতােই বুঝতে পেরেছে ছাগল-চরানী বুদ্ধিমতী ফুলমােতিয়াও। তাই পানি ‘গিরুক’ আর পানি ‘চুহুক’, কোঈ খাতির নাহী—হাতের পাঁচ শেষ সম্বলটুকু সে হাতছাড়া

করবে না কিছুতেই।

আচ্ছাদনহীন ফাকা চাতালটায় বৃষ্টির ধারা গড়াতে গড়াতে । জমাজল ধীরে ধীরে ছােটোখাটো বন্যার আকার নিল। আপাত

গড়ান দিয়ে স্রোতের ধারা গড়গড়িয়ে নামতে লাগল। কয়েকটা = তাে কিলবিলিয়ে ধেয়ে আসছে মােতিয়ার দিকে!

| কাহে রে, কাহে—বিড়বিড় করে উঠল ফুলমােতিয়া, হমনি – কো দু-গােই হাত, হম তাে দশভুজা নাহী বা! ইধর সে হট যা! । হট! ভাগ্‌! = ভাগ বললেই কী স্রোতের ধারা ভেগে যাবে! সে তাে ক্রমশ | এগিয়ে আসছে। এগিয়ে আসছে, এগিয়ে আসছে।

ফুলমােতিয়া সত্যি সত্যিই পড়ে গেল মুস্কিলে। দুটো হাতের চেটো দিয়ে উপরের বৃষ্টির ছাট থেকে কোনও মতে বাঁচিয়ে । রেখেছে পায়সান্ন মহাভােগকে! আর দুটো হাত কোথায় যে চাতালের আগ্রাসী জলধারাকেও আটকে দেবে!

দুটো হাতের একটা হাত দিয়ে পায়সান্ন আগলে রেখে আরেকটা হাত দিয়ে চল ছিটোবে—তারও যে উপায় নেই! সেই হাতে জল-কাদা ঘেঁটে ফের পায়সান্না মহাভােগে হাত রাখবে কী করে!

অগত্যা দু-পা ছড়িয়ে বসল ফুলমােতিয়া। দুহাতের চেটোয় | ঠেকননা দিয়ে শালপাতার থালিসহ চূড়-চূড় মহাভােগ তুলে আনল

কোলের উপর। শালপাতার ফাঁক-ফোকর দিয়ে কতক ঝরে পড়ল = নিচে।

পড়ক! ঝরে পড়া মাত্রই ধুয়ে গেল। ধুয়ে যাক! তবু তাে—

চক্ চক্ করে উঠল ফুলমােতিয়ার চোখ। নাকে শুকে দেখল— | কা সুবাস ‘মহকাতেই!

ওদিকে শিবমন্দিরের ভিতর সােরগােল তুঙ্গে উঠেছে। কী ছাত্র কী শিক্ষকদের মধ্যে ফুলমােতিয়াকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা -মস্করা ও বেড়েই চলেছে।

কেউ বলছে, কা ছৌ দেখল বা মােতিয়া! কেউ বলছে, ব্যস্ জ্যাদা হাে গিয়া, অ ছােড় কর আ যা বিটিয়া! তার মধ্যই দু| এক গ্লাস খেয়েও চলেছে ফুলমােতিয়া, নওটংকির পারা। | আর বেড়ে চলেছে বৃষ্টি, তার সঙ্গে ঝড়ের ঝাপ্টা। ঠাস ঠাস করে ঝােড়াে হাওয়া আর জলের ছাট একবার ডানদিক থেকে, পরক্ষণেই বাঁ দিক থেকে এসে শালপাতার থালির উপর চড়চাপড় মেরেই চলেছে। মেরেই চলেছে, মেরেই চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *